রাজশাহীর তানোরে সরকারি আব্দুল করিম সরকার ডিগ্রি কলেজের জমি দখল করে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর মো. মোস্তফা কামাল কলেজের সম্পত্তি রক্ষায় গত ২০ এপ্রিল তানোর থানায় লিখিত জিডি দায়ের করেছেন। যার নম্বর- ৯১৫। এতে অভিযুক্ত করা হয় লিটন ডেকোরেটর মালিক মো. আনিসুর রহমান (৫০)। তার বাড়ি তানোর পৌর সদরের কুঠিপাড়া মহল্লায়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওই জিডি তদন্তের অনুমতির জন্য ৫ দিনেও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটির তানোর মৌজায় দশমিক ৭১ একর জমি তানোর-রাজশাহী সড়কের গোল্লাপাড়া ব্রিজের উত্তর পশ্চিম কোনে রয়েছে। যার দাগ নম্বর ১৫৪৪। কলেজটি বেসরকারি আমলে আর্থিক আয়ের জন্য সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে টিন, কাঠ ও বাঁশ দ্বারা নির্মিত একটি দোকানঘর অভিযুক্ত আনিসুর রহমান ভাড়া নেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোন ভাড়া প্রদান না করে জোরপূর্বক নিজের দখলে রেখেছেন। এঅবস্থায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার দোকান ঘরের ভাড়া প্রদান করে ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেন। এমন নোটিশের কোন তোয়াক্কা না করে কলেজের সম্পত্তিতে পাঁকা ইমারত নির্মাণের জন্য গত ১৯ এপ্রিল থেকে কলেজের সম্পত্তিতে ব্রিজের তল থেকে ভিত্তিস্থাপন করে ইট দিয়ে ওয়াল তুলে দোকান ঘর প্রস্তুত করছেন। এঅবস্থায় ভবিষতে দোকানঘর নির্মাণ বন্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর মো. মোস্তফা কামাল।
এনিয়ে দখলদার আনিসুর রহমান জানান, তানোর মৌজায় অবস্থিত গোল্লাপাড়া ব্রিজের উত্তর পশ্চিম জায়গা কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা করে আসছেন। এঅবস্থায় তিনি জানতে পারেন ওই জায়গাটি সরকারি খাস সম্পত্তি। এজন্য পাঁকা ঘর নির্মাণে কাজ করা হচ্ছে বলে এড়িয়ে গেছেন তিনি।
এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। পরে অবগত হয়ে দোকানঘর নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর জিডি তদন্তের অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।