হাটবাজারে নেই সরকারি মূল্য তালিকা

তানোরে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
তানোরে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ
রাজশাহীর তানোর পৌরসভায় অবস্থিত কালিগঞ্জহাট। এই হাটটি প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার বসে। সেই নিয়ম অনুযায়ী গতকাল (২৪ এপ্রিল) শুক্রবার ভোরে হাটটি বসে। কিন্তু টোল বা খাজনা আদায়ে হাটবাজারে নেই সরকারি মূল্য তালিকা। ফলে হাট ইজারাদারের ব্যাপক চাঁদাবাজিতে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী ছাড়াও ক্রেতা আর বিক্রেতারা উভয় সংকটে বিপাকে বেকায়দায় পড়েছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তানোর পৌরসভা এলাকাজুড়ে তানোর সদর গোল্লাপাড়া, তালন্দ ও কালিগঞ্জহাট মিলে ৩টি হাটবাজার রয়েছে। এরমধ্যে তালন্দ হাটের উত্তরে সকালে ছাগল ক্রয়-বিক্রয় হয়। এসময় ইচ্ছে মতো খাজনা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব হাটের মধ্যে কালিগঞ্জহাট ও বাজার পৌরসভার অন্যতম আয়ের উৎস। এই হাটবাজার প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের জন্য নিলাম বা ইজারা দেওয়া হয়। এবারে হাটটি প্রায় ৫২ লাখ টাকায় নিলামে নিয়েছেন মো. মহিদুল ইসলাম। গত বছর এই হাটটি ইজারা নিয়েছিলেন কালিগঞ্জহাট এলাকার বাসিন্দা রনি। এবিষয়ে পৌরসভার জিওল মহল্লার এক বাসিন্দা জানান, তিনি শুক্রবার সকালে সংসারের চাহিদা মোতাবেক তরি তরকারি ও পিয়াজ রসুন কেনার জন্য কালিগঞ্জহাটে যান। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন তরকারির পাশাপাশি ২০ কেজি রসুন ক্রয় করেন। এসময় ইজাদারের টোল আদায়কারী লোকজন ১০০ টাকা খাজনা দাবি করে। এতো টাকা খাজনা দিতে অসম্মতি জানালে তার ক্রয়কৃত রসুন কেড়ে নেয়া হয়। পরে নিরুপাই হয়ে ৮০ টাকা খাজনা দেন। টোল আদায়কারী ব্যক্তি রশিদে শুধু ২০ কেজি রসুনের পরিমান তুলে দেয়। কিন্তু খাজনা নেয়ার টাকার পরিমান তুলে দেয়নি। এভাবে হাট ইজারাদারের ব্যাপক চাঁদাবাজিতে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী ছাড়াও ক্রেতা আর বিক্রেতারা উভয় সংকটে বিপাকে বেকায়দায় পড়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও প্রতিমণ পটলে পাইকারি ক্রেতার কাছ থেকে ৪০ টাকা ও বিক্রেতার কাছ থেকে ৬০ টাকা সর্বমোট ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। টোলের নামে এভাবে এতো টাকা চাঁদা দিতে না চাইলে টোল আদায়কারী লোকজন ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হচ্ছে। এসব দেখে অনেকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একই তথ্য জানান মুদি দোকানি ধলা। তবে, বিষয়ে হাটইজারাদার মহিদুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ হয়নি। এব্যাপারে তানোর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাইমা খান বলেন, তানোর এলাকার কোন হাট-বাজারে অতিরিক্ত টোল আদায় নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ই/তা
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে