বরগুনার তালতলীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২একর জমি দখল করে প্রভাব খাটিয়ে যৌথভাবে মৎস্য ঘের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বরগুনা পাউবো'র ওয়ার্ক এ্যাসিস্ট্যান্ট মোঃ আবদুল কুদ্দুস সরে জমিন তদন্ত করেন। এ সময় তিনি তাদেরকে তালতলী পানি উন্নয়ন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হিমেল এর স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক নামে নোটিশ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের যে জমি কেটেছে তাহা ভরাট দেয়ার নির্দেশ দেন। কুদ্দুস সাহেবের এ নির্দেশের প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও কেহ কোন ভরাট করেনি।
জানা গেছে, বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া এলাকায় শুভ সন্ধ্যা সৈকতের পূর্ব পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে যৌথভাবে মৎস্য ঘের করেছে ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিক হাওলাদার, বিএনপি নেতা মোস্তফা বিশ্বাস, আব্দুল হক হাওলাদার, লাল মিয়া, সোহরাব হাওলাদার ও লালমিয়া হাওলাদার। এদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বরগুনা পাউবো'র তালতলী উপজেলার দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ক এ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুল কুদ্দুস মিয়া চলতি (এপ্রিল) মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘটনাস্থল সরেজমিন তদন্ত করেন। এ সময় তিনি তাদেরকে তালতলী পানি উন্নয়ন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হিমেল এর স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক নামে নোটিশ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি থেকে মাটি কেটে মৎস্য ঘের করার গর্তগুলো ৭ দিনের মধ্যে ভরাট করে দেয়ার নির্দেশ দেন। তার এ নোটিশ ও নির্দেশের ফুডা পয়সারও কোন গুরুত্ব দেয়নি ঘের মালিকরা। এ নির্দেশের প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এ বিষয় অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান হাওলাদার ওয়ার্ড বিএনপি'র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করে বলেন, আমি মৎস্য ঘের করিনি। ভেড়িবাঁধের বাইরে আমার ছেলের বসতঘর রয়েছে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তা বেঁধেছি। যাতে বসতঘরে লবণ পানি ঢ়ুকতে না পারে।
আরেক অভিযুক্ত মোস্তফা বিশ্বাস বিএনপি-র একনিষ্ঠ কর্মী দাবি করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে তিনি বিএনপি করে আসছেন। তার পূর্বপুরুষরাও বিএনপিতে ছিলেন। মৎস্য ঘের করার বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, নদীতে নামার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে শুধু রাস্তা করেছেন। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট কুদ্দুস ভাই এসে দেখে গেছেন এবং বলেছেন এতে কোন সমস্যা নেই। বরগুন পানি উন্নয়ন বোর্ড তালতলী পানি উন্নয়ন শাখার ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস দায়সারা ভাবে বলেন, বরগুনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১০ হাজার একর জমি রয়েছে। সার্ভেয়ার আছে মাত্র একজন। তাও আবার সে গেছে এলপিয়ারে। তারে রেখে কোন রকম কাজ চালানো হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতটুকু জমি তারা কেটে ঘের করছে জনবল কম থাকার কারণে তা মেপে নির্ধারণ করা যায়নি। তারপরেও আমি গিয়ে নোটিশ দিয়েছি। তারা আমার সাথে জমি ভরাট করে দেয়ার কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে আমার আর যাওয়া হয়নি। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে মৎস্য ঘের করার অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক গর্ত ভরাট করে দেয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। দখলদাররা এই আইন অমান্য করলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।