কলাপাড়ায় ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
কলাপাড়ায় ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুই দিনের ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বজ্রবৃষ্টিতে বেরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের পাকা ধানক্ষেতে পানি জমে গেছে। এখনো কৃষক এক পঞ্চমাংশ জমির ধানও ঘরে তুলতে পারেননি। অর্ধেক ধানে অংকুর গজিয়েছে। কিছুটা নষ্ট হয়ে গেছে। একেতো ধানের দাম আশঙ্কাজনহারে কমে গেছে। বর্তমানে ৭০০-৭৫০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি হচ্ছে। তার উপরে প্রাকৃতিক দূর্যোগে কৃষক ভয়াবহ লোকসানের ধকলে পড়েছেন। তার চরম বিপাকে পড়েছেন। দু’একদিনে পানি কমবে তাও নিশ্চিত হতে পারছেন না। ফলে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সরেজমিনে ঘুরে কৃষকের এমন দুরবস্থার চিত্র দেখা গেছে। এক কথায় কৃষকরা এখন বহুমুখি সংকটে পড়েছেন বোরো ধান নিয়ে। নীলগঞ্জ ইউনিয়নের গুটাবাছা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম খান জানান, এক কানি (আট বিঘা) জমির ধান এখনো মাঠে পড়ে আছে। পাকা ধান অনেক ঝরে গেছে। এখন পানিতে ক্ষেত ডুবে আছে। পানি না কমলে মেশিন দিয়ে কাটা যাচ্ছে না। কাট ধান আবার অধিকাংশ গজ (অংকুর) হয়ে গেছে। জানালেন, তাঁদের গ্রামের শতাধিক কৃষকের অন্তত ২০০ একর জমির পাকা ধান কাটতে পারছেন না। এই চাষীর দাবি অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারবেন কি না তা নিশ্চিত হতে পারছেন না। মানুষটা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

জানালেন ইব্রাহিম, এবছর এক কানি জমি চাষাবাদ ১১-১২ হাজার, রোপনে ১৪-১৫ হাজার, সেচ, সার ও কীটনাশকে অন্তত ৫০ হাজার এবং কাটা মাড়াই করতে ১৭-১৮ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। মোট ৯৩-৯৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। সব ঠিক থাকলে এবছর কানি জমিতে ১৬০-১৭০ মণ ধান পেতেন। কিন্তু এখন অর্ধেক পাওয়ার শঙ্কায় ভুগছেন। কৃষকরা দাবি করেন, তারপরও গেল বছর ধানের দাম ছিল ১১-১২ শ’ টাকা। আর এ বছরে বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭৫০ টাকা মণ দরে। কৃষকের জানান, সিন্ডিকেটের কারণে নির্দিষ্ট মেশিনে কাটতে হয়। নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতে হয়। তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অসংখ্য কৃষক অভিযোগ করেন, মাছ ধরার লোকজন পানি নামার খালে বেড়া দেওয়ায় পানি নামতে পারছে না। এটাও একটা বড় ভোগান্তি। কৃষককে যেন চরম বিপাকে ফেলা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান জানান, এবছর কলাপাড়া উপজেলায় চার হাজার ৭৭২ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখনো অন্তত তিন হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি আছে। হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মাঠ পর্যায়ে সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা। তবে বৃষ্টিতে কৃষকের বহু ধান ক্ষেতে পানি জমে আছে এমন তথ্য পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন। খেপুপাড়া রাডার স্টেশনের দেওয়া তথ্যমতে গত  ২৮ এপ্রিল দুপুর থেকে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত এখানে মোট ২৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, কৃষকের সমস্যা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে মাঠ পর্যায়ে কৃষিবিভাগ কাজ করছে। তবে পানি অপসারণে কেউ কৃষকের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানালেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে