জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ বিশ্বজনতার কণ্ঠ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ১ মে, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ বিশ্বজনতার কণ্ঠ

কলম্বিয়ার সান্তা মার্তায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা যৌথভাবে আয়োজন করে কলম্বিয়া ও নেদারল্যান্ডস সরকার। একই সময়ে “পিপলস সামিট”-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী ও নেতৃবৃন্দ জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে একত্রিত হন। সম্মেলন থেকে ঘোষিত বৈশ্বিক সমন্বিত কর্মসূচির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (DHORA), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠন ঢাকাসহ দেশের ১০টি স্থানে মানববন্ধন, র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণের দাবিতে জনসচেতনতা ও সংহতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (APMDD)-এর সদস্য হিসেবে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল সান্তা মার্তায় “পিপলস মার্চ ফর এ ফসিল ফ্রি ফিউচার”-এ নেতৃত্ব দেন। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় সেনা কমার্শিয়াল সেন্টার থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পদযাত্রা প্লাজা দে বলিভারে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সংহতি বক্তব্য প্রদান করেন। সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে শরীফ জামিল বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়নের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু সংকটের কারণে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী প্রতিদিন টিকে থাকার লড়াই করছে। নিরাপদ পানির সংকট, খাদ্য ঘাটতি ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, উপকূল ও নদীভাঙনপ্রবণ অঞ্চলের বহু মানুষ প্রতিদিন রাতে এই আশঙ্কা নিয়ে ঘুমাতে যান যে, পরদিন সকালে তাদের গ্রাম বা বসতভিটা আদৌ টিকে থাকবে কি না। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ নদীভাঙন ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগে তাদের ঘরবাড়ি ও জমি হারাচ্ছে। এই সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়; পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যা, নেপালের হিমবাহ গলে যাওয়া কিংবা ফিলিপাইনের বাতাঙ্গাস অঞ্চলে এলএনজি অবকাঠামোর কারণে মৎস্যসম্পদ ও জেলেদের জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব, সবই একই বাস্তবতার বহিঃপ্রকাশ। এসব অভিন্ন সংকটের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই বৈশ্বিক সম্মেলনে একত্রিত হয়েছেন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বন্ধের দাবি তুলেছেন। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে শরীফ জামিল বলেন, আয়তনে ছোট হলেও বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটি কয়লা ও এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণে শীর্ষ চার দেশের মধ্যে রয়েছে। তিনি বেলেম, বাকু ও দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, অতীতেও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর অগ্রগতি খুবই সীমিত ছিল। একইভাবে প্যারিস চুক্তির অধীনে গৃহীত বহু প্রতিশ্রুতিও এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বক্তব্যের শেষাংশে শরীফ জামিল জোর দিয়ে বলেন, উন্নয়ন জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়া সম্ভব নয়, এ ধারণা বিভ্রান্তিকর। তিনি জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর রূপরেখা প্রণয়নের আহ্বান জানান এবং বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই জরুরি ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে