রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ লাখ ৬৩ হাজার পশু

এম এম মামুন; রাজশাহী
| আপডেট: ২ মে, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম | প্রকাশ: ২ মে, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ লাখ ৬৩ হাজার পশু
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু। আর শেষ সময়ে এসে এসব পশু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। পশু খাদ্যের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় হাটেও এর প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ বছরের চাহিদা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি পশু। যদিও চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি রয়েছে। এ কারণে দামে খুব একটা বেশি প্রভাব পড়বে না এমন ধারণাও করা হচ্ছে। প্রতি বছরই কিছু পরিমাণ পশু বেশি থাকে। তবে গেল কয়েক বছর সীমান্তে বিজিবির চৌকস পর্যবেক্ষণে ভারতীয় গরুর আমদানি বন্ধ হওয়ায় কোরবানি উপলক্ষে পশু পালনে আগ্রহ বেড়েছে খামারি ও স্থানীয়দের। রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: ফজলে রাব্বি জানান, রাজশাহীতে এ বছর জেলায় এবার মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি। যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি রয়েছে।এছাড়াও এসব পশুর মধ্যে রয়েছে, ষাড়, বলদ ও গাভী।এর মধ্যে গরু রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি, মহিষ রয়েছে ৩ হাজার ৪২৫ টি ও ছাগল রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯ টি, ভেড়া রয়েছে ৪৩ হাজার ৪০৬ টি। কৃষক ও খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল আজহার আরও বেশ কয়েক দিন বাকি আছে। কোরবানিকে কেন্দ্র করে বাসা-বাড়ি ও খামারে লালন-পালন করা পশুর বাড়তি যত্ন নেওয়া হচ্ছে। খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণের জন্য খাওয়াচ্ছেন ঘাস, ভুট্টা, খৈল ও ভুসিসহ পুষ্টিকর সব খাবার। আগামী সপ্তাহ থেকে পশু হাটে তোলার কথা জানিয়েছেন খামারীরা।তবে গোখাদ্যের দাম বাড়ায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি থাকতে পারে। রাজশাহীর মধ্যে সবচেয়ে বড় পশুর হাট সিটি হাট। এখানে সপ্তাহে রোববার ও বুধবার পশুর হাট বসে। এই হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পশু কেনাবেচা করতে আসে ক্রেতা বিক্রেতারা। কোরবানী হাট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। যাতে কোনো অপ্রিতীকর ঘটতে না পারে। যদিও এখনও কোরবানী উপলক্ষে সেভাবে পশু বেচাকেনা শুরু হয়নি। আগামী সপ্তাহ থেকে কোরবানির হাট শুরু হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। খামারিরা দাবি করছেন, এবারও কোরবানির পশুর দাম চড়া হতে পারে। কারণ উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। খাদ্যের দাম বেশি হওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। এবার কোরবানির পশু বিক্রিতে প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম প্রত্যাশা করছেন তারা। রাজশাহীর পবা উপজেলার খামারি আবদুল কাদের বলেন, এবার আমরা আগে ভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করেছি। পশু পালনে আমাদের খরচও বেড়েছে, তাই বাজারে যেন ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায়, সেটাই প্রত্যাশা। আরেক চাষি বাপ্পি ইসলাম বলেন, আমাদের বাড়িতেই এখন খামারের মত করে পশু পালন হয়। সামনের কোরবানির হাট উপলক্ষে আমাদের ছয় মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা রয়েছে। এবার আমার ৬টি ষাঁড় গরু রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় কিছুট উদ্বিগ্ন ছিলাম। আশা করছি এবার আমরা ভালো দাম পাাবো। মোহনপুর উপজেলার খাড়তা গ্রামের খামারি মো: আলতাফ হোসেন বলেন, আমার খাবারে প্রতি বছর গরু থাকে। এবছরও ৬ টি ষাঁড় গরু রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় প্রতিটি খাবারের দাম বেশি। চাহিদা মতো ভাল দাম না পেলে লোকসান হবে। একই উপজেলার খামারি সেলিনা বেগম বলেন, হাটে বড় পশুর তুলনায় ছোট আকারের পশুর চাহিদা বেশি থাকে সবসময়। তাই গরুর পাশা পাশি ছাগল ও ভেড়া পালন করেছি। আমার ২ টি গরু ৭ টি ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। এ গুলো কোরবানির জন্য প্রস্তুত করছি। দূর্গাপুর উপজেলার গরু খামারি রাফিউল বলেন, আমরা কোরবানি উপলক্ষে গরু লালন-পালন করি। আমরা চাই আমাদের পশুর ন্যায্য দাম। সেজন্য সরকারের নিকট আবেদন থাকবে, বিগত বছরের মত এবছরও যাতে ভারতীয় গরু দেশে না ঢোকে। ভারতীয় গরু না আসলে আমরা আমাদের দেশি গরুর নায্য দাম পাবো। আব্দুর রহিম নামের এক খামারি বলেন, আমরা খামারিরা কষ্ট করে পশু লালন-পালন করি। এবছর কোরবানির পশুর দাম যেন ন্যায্য পাই সেই প্রত্যাশা করছি। এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজশাহী বিভাগে এবার পশুর উৎপাদন সন্তোষজনক। বিভাগীয় পর্যায়ে খামারিদের প্রশিক্ষণ, রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি এবং পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ফলে বাজারে সুস্থ ও নিরাপদ পশু সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজশাহী জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, রাজশাহীতে বিগত কয়েক বছর থেকে দেশি পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এবছরও রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় বাড়তি পশু রয়েছে। যেগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবে। পশুর ভালো মাংস উৎপাদনে প্রাণীসম্পদ অফিসের মাধ্যমে আমরা খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও পশু চিকিৎসা দিয়ে থাকি। চাহিদার তুলনায় একটু বেশি রয়েছে। তাতে কোনো সমস্যা নেই। প্রতি বছরই বেশি থাকে। রাজশাহীর বড় বড় হাটে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারীরা পশু কিনতে আসেন। ক্রেতাদের কাছে রাজশাহী অঞ্চলের গরুর চাহিদা বেশি থাকে। ভারতীয় গরু না প্রবেশ করলে রাজশাহী অঞ্চলের খামারিরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছি।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে