পরীক্ষার হলে নজরদারি বাড়ল, পরীক্ষা হলো ‘ক্লিন ও ক্লিয়ার’। ফলাফলে দেখা গেল কিছুটা বিচিত্র। এতে পাশের হার কিছুটা কমলেও শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন। সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পাসের হার কমার অন্যতম কারণ হিসেবে পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনকে সামনে আনেন।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ‘ক্লিন ও ক্লিয়ার’ পরীক্ষা দিয়েছে। তাঁর ধারণা, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যতটুকু প্রস্তুতি নিয়ে অংশ নিয়েছে, ফলাফলও অনেকটা তারই প্রতিফলন।
তবে তাঁর বক্তব্যের অর্থ আগের বছরগুলোর পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে। এমনটা বোঝাতে চাননি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। আগের বছরের পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করতে চান না। তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, শিক্ষার্থীরা যতটুকু পড়াশোনা করেছে, এবার তার ভিত্তিতেই ফলাফল এসেছে এবং মূল্যায়নে কোনো বৈষম্য করা হয়নি। এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। তবে একই সময়ে বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই সিলেট বোর্ডের সর্বনিম্ন পাসের হার। পাসের হার কমার পেছনে ইংরেজি ও গণিতের ফলকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ দুটি বিষয়ে দুর্বলতা বেশি থাকায় অকৃতকার্যের সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাই ইংরেজি ও গণিতে তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্বল। ফলে এই দুই বিষয়ে তাদের অকৃতকার্যের হারও বেশি।
তবে সিলেট বোর্ডের এবারের ফলাফলে রয়েছে একটি ভিন্ন চিত্রও। সামগ্রিক পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন শিক্ষার্থী। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২টি। ফলে এবারের ফলাফলে একদিকে যেমন পাসের হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, অন্যদিকে তেমনি শীর্ষ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে এবার পরীক্ষার পরিবেশ ছিল আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত। আর সেই পরিবেশেই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির প্রকৃত প্রতিফলন ঘটেছে ফলাফলে।