সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ২ হাজার ১৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬১ জন। এ হিসাবে উপজেলায় মোট পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৭৭ জন পরীক্ষার্থী। উপজেলার অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭১ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন অনেকে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৫ শতাংশ।
দিরাই উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৭০ শতাংশের বেশি পাসের হার অর্জন করেছে। বিপরীতে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩০ শতাংশের কাছাকাছি।ি এক সময়ে ফলাফলের দিক দিয়ে জেলার সব চেয়ে ভাল ফকির মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল এবার অভিভাবকদের হতাশ করেছে।
শীর্ষে দিরাই সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে দিরাই সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৩ জন।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশের এতিম, অসহায় মেয়ে শিশুদের একমাত্র আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমী। এ প্রতিষ্ঠানের ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা মকসদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ। এছাড়া ধল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ৭১ দশমিক ১৮ শতাংশ পাসের হার নিয়ে ভালো ফলাফল করেছে।
৫০ শতাংশের ওপরে মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান:
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিরাই উপজেলার ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। ৫০ শতাংশ বা তার বেশি পাসের হার অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- দিরাই সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় -৮২.২৫ শতাংশ, বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমী-৭৪.৪৬ শতাংশ, মকসদপুর উচ্চ বিদ্যালয়-৭২.২২ শতাংশ, ধল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়-৭১.১৮ শতাংশ, আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়-৫৭.১৪ শতাংশ, ব্রজেন্দ্রগঞ্জ রামচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় -৫৪.৫৫ শতাংশ, ফকির মোহাম্মদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়-৫০.৯১ শতাংশ, আলোর দিশারী উচ্চ বিদ্যালয়- ৫০ শতাংশ, অন্যদিকে দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৫ শতাংশ।
৩০ শতাংশের ঘরে একাধিক বিদ্যালয়:
উপজেলার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রফিনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার মাত্র ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৭৩ শতাংশ পরীক্ষার্থীই এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলাফলের দিক দিয়ে তারা ২৪ টি বিদালয়র মধ্যে ২৪তম স্থানে রয়েছে।
এছাড়া মাটিয়াপুর এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৩১ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং রজনীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ। জগদল আল ফারুক উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৩৭ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং দত্তগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।
জিপিএ-৫ এর অবস্থান:
এসএসসি ফলাফলের প্রকৃত মান নির্ধারণে শুধু পাসের হার নয়, জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানের পাসের হার বেশি হলেও জিপিএ-৫ শূন্য হতে পারে, আবার তুলনামূলক কম পাসের হারের প্রতিষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫ পাওয়ার নজির থাকতে পারে।
তবে দিরাই উপজেলার ২৪টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যালয়ভিত্তিক জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯ জন।তার মধ্যে দিরাই সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৩ টি, দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় ১৩ টি, ব্রজেন্দ্রগঞ্জ রামচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ৬ ডট, ফকির মোহামবমদ উচ্চ বিদ্যালয়, মাতারগাঁও মোহাম্মদয়া উচ্চ বিদ্যালয়, হাসিমপুর মাহতাবপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রাজানগর কেসিপি উচ্চ বিদ্যালয়, গচিয়া এসএস উচ্চ বিদ্যালয়, আলোর দিশারী উচ্চ বিদ্যালয় ১ টি করে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। দিরাই উপজেলার ২৪টি বিদ্যালয়ে ২ হাজার ১৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৬১ জন পাস করলেও ১ হাজার ৭৭ জন ফেল করেছে। সামগ্রিক পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, অর্থাৎ ৫০ শতাংশেরও কম।