ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় সমগ্র অঞ্চলেই আমন ধান রোপন মৌসুমে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। একই একইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে সারের দাম।এতে কৃষকের এখন নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম। আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সারের এই কৃত্রিম সংকট বলে অভিযোগ করছেন ডিলার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।ফলে তৃণমূলে সার সরবরাহে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে সারের কৃত্রিম সংকটের।এতে বিপাকে পড়ছেন ডিলার ও প্রান্তিক কৃষকেরা
চলতি আমন ধান চাষের মৌসুমে কালীগঞ্জ উপজেলায় তীব্রভাবে সার সংকট দেখা দিয়েছে। যে কারনে ইউুরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের জন্য কৃষকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরকারি ডিলার পয়েন্ট গুলোতে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় এবং খোলা বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার বিক্রি হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে ক্রমান্বয়ে কৃষকদের ক্ষোভ বাড়ছে। মূলত কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলমের দায়িত্বহীনতার কারণে ইতোমধ্যে কালীগঞ্জে তীব্র সার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে চলতি আমন রোপন মৌসুমে অনেকাংশে কমে যেতে পারে ধানের উৎপাদন ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে সাধারন কৃষকরা। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন জরুরী বলে কৃষক সমাজ মনে করেন।কালীগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে এই কালীগঞ্জ উপজেলায় ১১ হাজার ১৮১ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ হাজার ৭৭৮ মেট্রিক টন যা চাহিদার বিপরীতে ৩ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন, ডিএপি ৭ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে ৬ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন, এমপিও ৪ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন এর বিপরীতে বরাদ্দ ৩ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন। কালীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৭৩৪ হেক্টর জমি। চলতি অর্থবছরে একই পরিমাণ চাষযোগ্য জমি দেখানো হয়েছে। বিগত অর্থ বছরে কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি সারের চাহিদা অনেক বেশি পরিমাণে দিলেও চলতি অর্থবছরের তা অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি সারসংকট তৈরীর করে কৃষকদের মাঝে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও সরকারকে বিপাকে ফেলার কৌশল বলে অভিযোগ উঠছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি অফিসের দেওয়া সারের চাহিদা দেখলে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ঐ অর্থ বছরে ২৩ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাই ১০ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন,টিএসপি চাহিদা ৮ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন এর বিপরীতে ৩ হাজার ৪৪০ টন, ডিএপি চাহিদা ১২ হাজার ৩৭০ টনের বিপরীতে ৬ হাজার ৬ শত মেট্রিক টন, এমওপি ১২ হাজার ৯০ মেট্রিক টন এর বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ৩ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন। কালীগঞ্জ উপজেলার একাধিক বিসিআইসি ডিলার ও সাব ডিলার বলেন, সারের মোট চাহিদার থেকে বরাদ্দ সব সময় কম পাওয়া যায়। কিন্তু এবার কৃষি কর্মকর্তা চাহিদা অনেকটা কম দিয়েছেন সে ক্ষেত্রে বরাদ্দ আরো কমে গেছে। যার প্রভাব কৃষকদের মাঝে ইতিমধ্যেই পড়া শুরু করেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট গ্রামের কৃষক সুমন হোসেন বলেন,সরকারি ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাওয়া না। কিন্তু পাশে থাকা খুচরা দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে চড়া দামে। আমার ৫০ কেজি সারের প্রয়োজন হলে সরকার অনুমোদিত ডিলার সাব ডিলারদের নিকট থেকে পাচ্ছি মাত্র ১০ কেজি সার। আবার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের নিকট থেকে সুবিধা নিয়ে বড় বড় কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে সারের তালিকা প্রস্তুত করেছেন। কৃষি কর্মকর্তা ও সার ব্যবসায়িদের যোগসাজসে গড়ে ওঠা এ সিন্ডিকেটের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে গেছি। এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা সম্পূর্ণ উদাসীন। নেই কোনো তদারকি।
সারের সংকট বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,সরকার বলছে কৃষকদের সারের ব্যাবহার কমাতে হবে। তাছাড়া কৃষকরা সার নিয়ে ড্রাগনের জমিতে সার বেশি ব্যবহার করায় ধানের ক্ষেত্রে জমিতে প্রভাব পড়ে যাচ্ছে। তবে সারের চাহিদা বিগত বছরের তুলনায় এবছর নাকি একটু বেশি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। একই সাথে কৃষকদের বেশি দামে সার কেনার ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, কোনো অবস্থাতেই সারের সংকট তৈরি করা যাবে না। সিন্ডিকেট কিংবা সার সংকট তৈরি করে অনৈতিক সুবিধা গ্রহনকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।