শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষকের তান্ডব

তানোরে ভেঙ্গে দেয়া হলো ১৭টি দোকান ঘর এলাকায় উত্তেজনা

এফএনএস (তানোর, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
তানোরে ভেঙ্গে দেয়া হলো ১৭টি দোকান ঘর এলাকায় উত্তেজনা

রাজশাহীর তানোর উপজেলার  নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন মাস্টার তান্ডব চালিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছেন বিদ্যালয় সংলগ্ন খাস জায়গার ১৭টি দোকান ঘর। এঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।বৃহস্পতিবার (২০আগস্ট) দুপুরে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের উপস্থিতিতে ও তার আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগীতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফিল্মি-স্টাইলে এসব দোকান ঘর ভাঙচুর লুটপাট করা হয়েছে। 

এতে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে ১৭টি পরিবার পথে বসে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকার যখন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মরিয়া তখন সরকারি দলের লেবাস পরে আলাউদ্দিন মানুষকে কর্মহীন করছে। এতে সরকারি দলের চরম ইমেজ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী রুবেল ইসলাম বাদি হয়ে নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আলোচিত প্রধান শিক্ষক আলা উদ্দিনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রুবেল একজন ডিম ব্যবসায়ী,  নারায়নপুর স্কুল মোড়ে দোকানের পজিশন কিনে প্রায় ৫ বছর যাবৎ ডিম ব্যবসা করে আসছেন। বৃহস্পতিবার (২০আগস্ট) দুপুরে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের নির্দেশে তার আত্মীয়-স্বজন দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এসময় রুবেল বাধা দিতে গেলে প্রধান শিক্ষক তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেস্টা ও দোকানের ক্যাশ ড্রয়ার থেকে ব্যবসার নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও দোকান ভাঙচুরে তার আরো প্রায় এক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। 

এরাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, বিগত ১৯৮৪ সাল থেকে নারায়নপুর গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে রাস্তার ধারের সরকারি জায়গায় দোকান করে ব্যবসা শুরু করে এসব ব্যবসায়ীরা। আর ৯০ দশকে নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। এর পর থেকেই ওই জায়গার নাম হয় স্কুল মোড়। কিন্ত্ত প্রধান শিক্ষক কোনো কাগজপত্র ছাড়াই এসব জায়গা স্কুলের দাবি করে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা শুরু করে। স্কুল পরিচালনা কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি তিন দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীদের দোকান গুটিয়ে নেয়ার জন্য দেয়ালে নোটিশ টাংগিয়ে দেন।  

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙচুর শুরু করেন। তালন্দ ইউপির সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) আইয়ুব আলী বলেন, নারায়নপুর মৌজায়, খতিয়ান নম্বর-১৫, দাগ নম্বর ১৯৫৪, পরিমান ৪ দশমিক ৩৮ একর সম্পত্তির মালিক আরজান বিবি, রহিম বক্স মন্ডল, আলিম বক্স মন্ডল, রাবেয়া খাতুন, হাজেরা খাতুন ও ছবিজান বেওয়া। এসব সম্পত্তির মধ্যে ২ দশমিক ১৯ একর সম্পত্তিতে স্কুল করা হয়েছে। কিন্ত্ত তারা কেউ এসব সম্পত্তি স্কুলের নামে রেজিষ্ট্রি দেননি। জালিয়াতি করে এসব সম্পত্তি হাতিয়ে স্কুল করা হয়েছে। 

ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক  ও রুবেল বলেন, আমরা বার বার বলেছি কাগজপত্রে স্কুলের জায়গা হলে আমরা স্বেচ্ছায় চলে যাবো। কিন্ত্ত হেড মাস্টার কখনোই কাগজ দেখায় না আবার জমি মাপজোক করে না। ১৫ নম্বর খতিয়ানের ১৯৫৩ নম্বর দাগ রাস্তার জায়গা এসব জায়গার উপর দোকান ঘর নির্মান করে তারা ব্যবসা করছিলেন। হঠাৎ করে এমন হটকারিতা ও তান্ডব চালিয়ে দোকান ঘর ভেঙে দেয়ায় আমরা ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছি। আমরা  সঠিত তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই বলেও জানান ব্যবসায়ীরা। 

এব্যাপারে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আলোচিত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন মাস্টার বলেন, নোটিশ করার পর স্বইচ্ছায় দোকান্দাররা তাদের দোকান ভেঙে নিয়েছেন। ভিডিওতে আপনার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের নিয়ে হামলা ও ভাংচুর করার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে এমন প্রশ্নের কোন সদ উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান এবং মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি। এবাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগ আমার হাতে পড়েনি। তবে, ইউনিয়ন বিট অফিসার ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।  তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাঈমা খান বলেন, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। খোঁজ খবর নিয়ে এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে