পুলিশের ওপর হামলা ও সংঘবদ্ধ চাপ প্রয়োগের ঘটনা বাড়ছে

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:১০ এএম
পুলিশের ওপর হামলা ও সংঘবদ্ধ চাপ প্রয়োগের ঘটনা বাড়ছে

পুলিশের ওপর হামলা ও সংঘবদ্ধ চাপ প্রয়োগের ঘটনা বাড়ছে। এমনকি নিজেদের নিরাপত্তা বলয় পুলিশ লাইনসের মধ্যেও আক্রান্ত হচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। সারাদেশে চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে ৩৫৯টি পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও জুলাইয়ে ৪২টি করে ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মার্চে পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা বেড়ে ৬৩টিতে দাঁড়ায় এবং এপ্রিলে তা আরো বেড়ে ৬৬টিতে পৌঁছে। যা সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। মে মাসে ৫৫ ও জুনে ৪৯টি আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। সার্বিকভাবে যা দেশের আইন-শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সুুেযাগসন্ধানীরা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন। অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জুলাই আন্দোলনে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মব সংস্কৃতি বা দলবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা বিস্তার লাভ করে। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলার ও স্থিতিশীলতার জন্য এ প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার সংস্কৃতি স্বাভাবিক হয়ে উঠলে ক্রমেই কমে যায় কে অপরাধী আর কে নির্দোষ তা যাচাইয়ের সুযোগ। বরং অভিযোগ, গুজব কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেও মানুষ সংঘবদ্ধ হামলার শিকারের শঙ্কা বাড়ে। তাতে নিরপরাধ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিই বাড়ে। পাশাপাশি দুর্বল হয়ে পড়ে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ ও বিচার ব্যবস্থার কর্তৃত্ব।

সূত্র জানায়, পুলিশের ওপর হামলা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে। এখনো পরিপূর্ণ মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। যে কারণে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। তার মধ্যে পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলছে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আক্রান্ত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার শঙ্কা বাড়ে। এ ধরনের হামলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশে জনপ্রতিনিধিদেরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে তা অন্যদের মধ্যেও অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে বার্তা পৌঁছে দেবে। কিন্তু অপরাধের ঘটনা বারবার ঘটলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট আরো গভীর হচ্ছে। যা দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের হুমকি।

এদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ জানান, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার মূল উদ্দেশ্য হলো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একই ধরনের অপরাধ বারবার সংঘটিত হচ্ছে। এতে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা কমার পাশাপাশি অপরাধীদের মধ্যেও একধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। অনেকগুলো মামলা থাকার পরও একজন অভিযুক্ত যখন জামিনে বেরিয়ে এসে আবার অপরাধে জড়াতে পারে, তখন সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়। যারাই অপরাধ করুক, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরো কমবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকবে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসে হামলার ঘটনাটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। দায়িদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পুলিশকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন ব্যাহত হবে।