পাসপোর্টের শক্তি বাড়াতে প্রয়োজন কার্যকর কূটনীতি

এফএনএস | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
পাসপোর্টের শক্তি বাড়াতে প্রয়োজন কার্যকর কূটনীতি

কোনো দেশের পাসপোর্টের শক্তি কেবল ভ্রমণের সুবিধার প্রতীক নয়; এটি সেই দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক আস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সর্বশেষ প্রকাশিত সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়ে ৯৭তম হওয়া স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের বিষয়। যদিও গত বছরের তুলনায় কিছু উন্নতি রয়েছে, তবু চলতি বছরের শুরু থেকে অবস্থানের অবনতি এবং ভিসামুক্ত বা সহজ ভ্রমণ সুবিধার দুটি গন্তব্য হারানো ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা নয়। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকরা মাত্র ৩৫টি দেশে ভিসামুক্ত, অন-অ্যারাইভাল ভিসা অথবা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা ১৯২টি দেশে সহজে প্রবেশের সুযোগ পান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও মালদ্বীপ, ভারত, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই ব্যবধান শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে পাসপোর্টের অবস্থানকে এককভাবে কোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বা মর্যাদার মানদণ্ড হিসেবে দেখা উচিত নয়। এই সূচক মূলত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা নীতি ও পারস্পরিক সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। ফলে এর পেছনে কূটনৈতিক সম্পর্ক, অভিবাসন নীতি, নিরাপত্তা, ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয় কাজ করে। গত দুই দশকের চিত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশের অবস্থানে ধারাবাহিক ওঠানামা রয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশের সঙ্গে সহজ ভ্রমণ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলোরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। নতুন ভিসা-অব্যাহতি বা অন-অ্যারাইভাল চুক্তি, অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আস্থা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ এবং পাসপোর্ট ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের আইন মেনে চলা এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বায়নের এ যুগে মানুষের অবাধ ও সহজ আন্তর্জাতিক যাতায়াত অর্থনীতি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই বাংলাদেশের পাসপোর্টের শক্তি বাড়ানোর বিষয়টিকে শুধু ভ্রমণ সুবিধার প্রশ্ন হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে-এটাই প্রত্যাশা।