অবশেষে মরদেহ উদ্ধার হলো ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুজ্জামান রকির। র্দীঘ ৩৫ ঘন্টা পর আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে ভেড়ামারার পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতাকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত শুক্রবার (১১ ই সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টা ১০ মিনিটের দিকে ১২৩ জন যাত্রী বহনকারী বাল্কহেডের সাথে হার্ডিং ব্রিজের পিলারের ধাক্কায় ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুজ্জামান রকি সহ ৩ জন নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে দুইজনকে উদ্ধার করা হলেও রকি ছিল নিখোঁজ। ওই রাতেই উদ্ধার অভিযান শুরু কওে ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিরুল আরাফাত এবং ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ জায়েদুর রহমান।
জানা যায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপা কাতলা গাড়ি ঘাট থেকে ১২৩ ভ্রমণকারী নিয়ে তারা ভেড়ামারা উপজেলার সোলাইমান শাহ মাজারে বেড়াতে আসে। এছাড়াও ওই নৌকাতে মাঝিসহ আরো বেশ কয়েকজন লোক ছিল। মাজার বেড়ানো শেষে রাত ৯টা ১০ মিনিটের সময় তারা হার্ডিং ব্রিজের কাছে পৌঁছায়। এ সময় স্রোতের প্রচন্ড ধাক্কায় হার্ডিং ব্রিজের চার নাম্বার পিলারের সাথে বাল্কহেডের পেছনের অংশের ধাক্কা লাগে। এ সময় রকি, লিটন ও ওহাব পড়ে যায়। লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকি নিখোঁজ ছিল। এসময় পদ্মা নদীর বাহিরকচর অংশের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় বাদবাকি ভ্রমণকারীরা অবস্থান গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস, ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। রকির বন্ধু আনিসুজ্জামান বলেন, সে যখন নৌকা থেকে পড়ে গেল, আমি তাকে ধরতে গিয়েছিলাম কিন্তু পারিনি। সে যথেষ্ট শক্তি সামর্থ্যবান ছেলে। সাঁতারে যথেষ্ট দক্ষতা আছে, আশা করছি ফিরে আসবে।