ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে বক্তারা

‘বর্তমান প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার দর্শন’

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
‘বর্তমান প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার দর্শন’

শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনার সমন্বয় ঘটিয়ে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে মহান শিক্ষাবিদ ও সুফি-সাধক খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার দর্শন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ‘খানবাহাদুর আহছানউল্লার শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং খানবাহাদুর আহছানউল্লা ইনস্টিটিউট।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা কেবল একজন সফল শিক্ষা প্রশাসকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন উচ্চমার্গের আধ্যাত্মিক সাধক ও সমাজসংস্কারক। অবিভক্ত বাংলায় পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে এবং সমাজে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসারে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অনবদ্য ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন উপাচার্য। সঅনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. একরাম হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর ও চরম বস্তুবাদী সমাজে মূল্যবোধের যে অবক্ষয় ঘটছে, তা রোধে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার সমন্বিত শিক্ষা ও অধ্যাত্ম ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশক হতে পারে। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে নর্থ আমেরিকান মুসলিম অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আজম আজহারী বলেন, অবিভক্ত বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চায় মুসলিম সমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা। আধ্যাত্মিক সাধনাকে তিনি সামাজিক কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করে গেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আহ্ছানিয়া মিশন এই দর্শনের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এ এফ এম এনামূল হক এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক মনিরুল ইসলাম।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি এ এইচ এম মাহফুজুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা আক্তার মাহমুদ রানা এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সবুর খান সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তরুণ প্রজন্মকে এই মহান সাধকের অধ্যাত্মচেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে