একটি রুটি, এক কাপ চা, আর বাবার প্রতি একটি নিষ্পাপ শিশুর ভালবাসা, দেশ-বিদেশের নেটিজেনদের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসা আর মমতার কাছে পরাজিত হয়েছে, জনতার কঠোরতা। আর জয়ী হয়েছে, একটি ছোট্ট নিষ্পাপ মেয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
আর সেই সাথে, ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করেছে একটি পরিবারের। ব্যাপক আলোচিত এ ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের। সর্বশেষ রবিবার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে এসে সেই আলোচিত শিশু কন্যা ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নিয়েছেন উজিরপুর উপজেলার মানবিক নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা।
ভূক্তভোগী কর্মহীন শিক্ষিত যুবক রায়হানুল হক অনিক ভালভাবে সুস্থ্য জীবনে ফিরে আসতে পারলে, তাকে কর্মজীবী করে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ আলী সুজা। রায়হানুল হক অনিক বলেন, উদ্দেশ্যে প্রনেদিতভাবে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জেরধরে আমাকে চোর আখ্যাদিয়ে বাজারের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। অপরদিকে বামরাইল বাজারের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে বাবাকে নির্যাতনের কথাশুনে পরিবারের সবার অজান্তেই সেখানে ছুঁটে গিয়েছিলো রায়হানুল হক অনিকের নিষ্পাপ মেয়ে। সে তার বাবার প্রতি যে পরম মমতা দেখিয়েছেন, তা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই শিশুটি বলে, আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা। সে কখনও চুরির সাথে জড়িত হতে পারেন না।
তবে রায়হানুল হক অনিক তার কতিপয় বন্ধুর প্ররোচনায় আগে মাদকাসক্ত ছিলেন জানিয়ে তার স্ত্রী বলেছেন, সে (অনিক) কোনদিন চুরির সাথে জড়িত ছিলেন না। পূর্ব শত্রুতার জেরধরে কতিপয় ব্যক্তি তাকে (অনিক) জোরপূর্বক বেঁধে রেখে মারধর করে চোর বানাতে চেয়েছিলেন।
সূত্রমতে, দেশ-বিদেশের অসংখ্য নেটিজেনরা রায়হানুল হক অনিকের সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে, তার কর্মহীন জীবনের কথাশুনে তাকে সহায়তার মাধ্যমে কর্মজীবী করার আশ্বাস দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ছিচকে চুরির আপবাদ দিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে বামরাইল বাজারের একটি খুঁটির সাথে রায়হানুল হক অনিককে বেঁধে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করেছে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি। শনিবার ভোরে এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের নিষ্পাপ রাজকন্যা। এরপর সারারাত অনাহারে কাটানো অনিকের জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও এককাপ চা এনে ওই রাজকন্যা বেঁধে রাখা বাবার মুখে খাবার তুলে দিচ্ছিলো। স্থানীর এক যুবক বিষয়টি ভিডিও ধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহুর্তের মধ্যে তা ব্যাপক ভাইরাল হয়।