ক্যান্সার চিকিৎসায় দেশে আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
ক্যান্সার চিকিৎসায় দেশে আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন
ছবি: সংগ্রহীত

দেশের ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন বিভিন্ন হাসপাতালে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ছয়টি মেশিন ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে এবং ১১টি ঢাকার বাইরের হাসপাতালে স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যান্সারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক হাসপাতালে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মেশিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি থাকায় দরিদ্র রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নতুন ১৭টি মেশিন চালু হলে ঢাকার বাইরে চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়বে এবং রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী চাপও কমবে।

তিনি বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবল প্রশিক্ষণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসায় রেডিওথেরাপির পাশাপাশি রোবটিক সার্জারির সুবিধা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চাহিদা অনুযায়ী ১০টি রোবটিক সার্জারি মেশিন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর পাঁচটি মেশিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যান্সারসহ জটিল রোগের অস্ত্রোপচারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এক বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন

সংবাদ সম্মেলনে আগামী এক বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগামী ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত সারা দেশে এ কর্মসূচি চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি।

কর্মসূচিতে শুধু মাঠপর্যায়ে প্রচার ও সচেতনতা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। র‌্যালি, মেলা এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, “দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো” স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়েও নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে।

ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রটোকল মেনে ব্যবস্থা

ব্রিফিংয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ, এমনটি মনে করার কারণ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গুর জন্য যা যা করণীয়, সব ধরনের চেষ্টা করছে সরকার। স্যালাইনসহ সব ধরনের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালগুলোতে। প্রটোকল অনুযায়ী যা করণীয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সব করা হচ্ছে। তাই ডেঙ্গু চিকিৎসায় সরকার ব্যর্থ, এটা সঠিক নয়।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি ডেঙ্গু-পরবর্তী হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের অনেকের হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতা দেখা দেওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে