ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে বিজিবির টহলদলের ওপর সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক বিজিবি সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে বিজিবির গুলিতে নোমান (৩৮) নামের এক চোরাকারবারি আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত নোমান হালুয়াঘাট উপজেলার ১ নং ভুবনকুড়া ইউনিয়নের ঝলজুলিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিখালী বিওপির আওতাধীন জলজলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ৩৯ বিজিবির পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে পণ্য আটক করে বিজিবি টহলদল। আটক করা পণ্য নিয়ে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা বিজিবি টহল দলের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে মৌখিকভাবে সতর্ক করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করা হয়। তবে হামলা অব্যাহত থাকলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান বিজিবি সদস্যরা। এতে এক চোরাকারবারি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও টহল অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)।
সোমবার সকালে এই মৃত্যুর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে হালুয়াঘাট পৌর শহর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা রাজপথে নেমে আসেন এবং সড়কে কাঠের গুঁড়ি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে পথচারী ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত ছিল এবং পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।