ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের ১২টি গ্রামে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. হাদিউজ্জামান জুয়েল। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে নলকূপ স্থাপন করা হয়।
জানা যায়, মালিয়াট ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সাইটবাড়ীয়া, মালিয়াট, বেথুলী, রাড়ীপাড়া, পাচকাহুনীয়া, মনোহরপুর, গয়েসপুর, দীঘারপাড়া, পারখিদ্দা, ভিটেখোলা, শশারপাড়া এবং পরমান্দী চাকুলিয়া এই ১২টি গ্রামের মাঠে মাঠে সুপেয় পানি ও কৃষকদের সুবিধার জন্য এই নলকূপগুলো স্থাপন করা হয়েছে।
হাদিউজ্জামান জুয়েল জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ বছর ধরে ঢাকায় স্টুডেন্টস মোটিভেশনাল স্পিকার হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। নিজ এলাকার মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি যশোর, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া অসহায় রোগীদের পাশে তিনি সবসময় বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়েছেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী ভর্তি এবং সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণে নিরলসভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। বহু বছর ধরে চলে আসা এই জনকল্যাণমূলক কাজগুলোকে আরও গতিশীল ও বেগবান করার জন্য তিনি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে হাদিউজ্জামান জুয়েল বলেন, আমার বাড়ি মালিয়াট ইউনিয়নের সাটবাড়িয়া গ্রামে। আমাদের এলাকার তৃষ্ণার্ত কৃষকেরা হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর রোদে পুড়ে ঘাম ঝরিয়ে অনেক দূর থেকে পানি আনতে বাধ্য হন। কৃষকদের এই চরম কষ্ট দেখে আমি তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কী। তখন তারা আমাকে জানান ফসলের জমিতে কীটনাশক ছিটানোর সময় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং অনেক দূর থেকে পানি আনতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় হয়। তারা আমাকে একটি নলকূপের ব্যবস্থার অনুরোধ জানান।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের এই দুর্দশার কথা আমি আমার এলাকার এক ছোট ভাইকে জানাই। পরবর্তীতে সেই ছোট ভাইয়ের দেওয়া অনুদানের টিউবওয়েল দিয়ে আজ আমাদের এলাকার বিভিন্ন মাঠে এবং গ্রামে মানুষের সুপেয় পানি ও কৃষকদের সুবিধার্থে এই নলকূপ স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এলাকার কৃষক গোলাম রসুল বলেন, আমাদের মাঠে কাজের সময় পানির খুব কষ্ট হতো। কীটনাশক ছিটানো বা খাওয়ার পানির জন্য অনেক দূর যাওয়া লাগত। জুয়েল ভাই আমাদের মাঠে নলকূপ বসিয়ে দেওয়ায় আমাদের সেই কষ্ট অনেক কমে গেল।
আরেক কৃষক বকতার উদ্দিন বলেন, মাঠে কাজ করার সময় পানির তীব্র সমস্যায় পড়তে হতো। জুয়েল ভাই আমাদের এই বিপদের কথা শুনে নলকূপের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, এতে আমাদের অনেক উপকার হলো। স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকদের মতে, হাদিউজ্জামান জুয়েলের এই উদ্যোগ এলাকার দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট লাঘব করবে এবং কৃষিকাজে তাদের গতি ফিরিয়ে আনবে।