খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

এফএনএস (এইচ এম শহীদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি কাবাডি, ভলিবল, হকি, দাবা, টেনিসসহ সব খেলায় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। নির্দিষ্ট পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়েরা দেশের সম্পদে পরিণত হন, তাঁদের সাফল্য হয়ে ওঠে জাতির গর্ব।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী সিলেট বিভাগের প্রতিযোগীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

জাতীয় পর্যায়ে কাবাডি ও ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফেরা সিলেটের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা সিলেটের সম্পদ। তোমাদের এই কৃতিত্ব আমরা বহু বছর মনে রাখব। সিলেটবাসীর মনে থাকবে, এই ছেলেদের নিয়ে আমরা অহংকার করতে পারি।’

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশে এখনো সব খেলায় পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সমান সুযোগ তৈরি হয়নি। ফুটবল ও ক্রিকেটের কিছু খেলোয়াড় সম্মান ও স্বীকৃতি পেলেও অন্য খেলাগুলোর ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত। অথচ অলিম্পিকের ডিসকাস থ্রো, পোল ভল্ট কিংবা হাইজাম্পে সাফল্য অর্জনকারী একজন অ্যাথলেটও দীর্ঘদিন একটি জাতির গর্ব হয়ে থাকতে পারেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যেকোনো খেলায় নির্দিষ্ট পর্যায়ের সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড় দেশের সম্পদ।

কাবাডি খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, হাডুডু খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য টার্ফের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সম্ভব হলে তাঁদের জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সিলেটে খেলার মাঠের সংকট দূর করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সিলেট সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একটি করে খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠা করা তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। এ ছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে কথা বলতে সংকোচ বোধ করা জিসান নামের এক তরুণের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, মাইকে কথা বলতে তিনি নিজেও নার্ভাস বোধ করেন। তবে আজ যিনি কথা বলতে পারেননি, কয়েক বছর পর তিনিই সাবলীলভাবে কথা বলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যেকোনো কাজের জন্য একটি শুরু প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আজ সম্ভব না হলেও পরবর্তী সুযোগে তা সম্ভব হবে।

সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিভাগীয় সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু ও জেলা সদস্যসচিব রেজাউল করিম নাচনসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় এখন। সবার প্রত্যাশার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট মহানগর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে মন্ত্রীর। রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে