সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তিন নেতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সংবাদ সম্মেলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় সাধারণ মানুষের মাঝেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামসুল হক ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি মো. কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আব্দুস সামাদ মুন্সির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তারা দাবি করেন, সামাদ মুন্সি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার ভাই ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর নাশকতার একটি "মিথ্যা মামলা" দায়ের করেন। তারা সামাদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান।
এর পরদিন শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন আব্দুস সামাদ মুন্সি। জেলা সদরের দুটি পৃথক প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “২০০৯-২০১৫ পর্যন্ত আমি উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর উপজেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এবং সর্বশেষ ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে যারা কুৎসা রটাচ্ছেন-তাদের রাজনৈতিক অতীতও প্রশ্নবিদ্ধ। শামসুল হক ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন এবং বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, "দলে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে সম্মেলন প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।"
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী এ প্রসঙ্গে জানান, “বিষয়টি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন মিলন এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকীর নজরে রয়েছে। আজ সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।”
উল্লেখ্য, আসন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নেতাদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান সম্মেলনের পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মত।