ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে বিলীন হয়েছে ১১ টি পরিবারের বসতভিটা। বর্তমানে পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় বুদ্ধিপ্রতিন্ধী এক বিদ্যালয়ে। মহারশি নদীতে পাহাড়ী ঢলের পানিতে ডুবে নিহত কিশোর ইসমাইল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় পাহাড়ি ঢলে ঝিনাইগাতীর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল। শুক্রবার তিনি উপজেলার দিঘীরপাড়, আহমদনগর, খৈলকুড়া, রামেরকুড়া ও ডাকাবর এলাকা পরিদর্শন শেষে অর্ধশতাধিক পরিবারের মাঝে তিন হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে মহারশি নদীর ব্রীজ সংলগ্ন খৈলকুড়া এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। একইসঙ্গে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাড় উপচে পানি প্রবেশ করে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর বাজারে ।এতে এক মুহূর্তে ভেসে যায় অন্তত ১১ টি পরিবারের বসতভিটা। ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি, ভেসে যায় ৫০ টিরও বেশি মাছের ঘের। পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয় ৩৪৫ হেক্টর জমির আমন ধান ও ১০ হেক্টর সবজি ক্ষেত এবং আংশিকভাকে নিমজ্জিত হয় ৫৭৫ হেক্টর জমির আমন ধান ও ২৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত। একদিনেই সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন অনেক পরিবার।
খৈলকুড়া এলাকার বিধাবা নারী রহিমা বেগম বলেন, গত দুই বছরে তিনবার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার ঘরবাড়ি। এবারও মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিয়েছে পাহাড়ি ঢল। ভেসে গেছে তার দু’টি ঘর, ফসলি জমি, সামান্য আসবাব। স্বামী মারা গেছেন ২৫ বছর আগে, অন্যের জমিতে চাষাবাদ আর দিনমজুরির আয়ে কোনোমতে সংসার চলতো। ঢলের পর পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেই তার।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ঢলে মহারশি নদীর ব্রিজপাড়ের এই বাঁধ ভেঙে গেলেও সংস্কার হয়নি। তাই এ বছর আবারও একই জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে । বারবার বলার পরও পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেয়নি।
ঝিনাইগাতী বণিক সমিতির সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান খান বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মহারশি নদীর পানিতে প্লাবিত হয়ে বাজারের শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়। এতে ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও সাধারণ জনগণ। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হঠাৎ নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ডুবে যায় অনেক দোকানপাট, নষ্ট হয় মালামাল। এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে মহারশি নদীর পাশে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, দোকানঘরের মেঝে উঁচু করাসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার, বাজার এলাকায় টেকসই ড্রেন নির্মাণের জোর দাবি জানান তিনি।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, মহারশি নদীর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্যে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, বৃষ্টি না থাকায় নদীর পানি কমে এসেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারীভাবে সহায়তা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।