ফরিদপুর বিভাগে শরীয়তপুরকে না রাখার দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৪:০৪ পিএম
ফরিদপুর বিভাগে শরীয়তপুরকে না রাখার দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল

সরকারের পরিকল্পিত নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাবে ফরিদপুর বিভাগের মধ্যে শরীয়তপুর জেলা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর কাছাকাছি হওয়ায় বহু মানুষ ঢাকা বিভাগের সঙ্গে থাকার পক্ষপাতী, তাই প্রস্তাবিত অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বেলা ১১টায় অরাজনৈতিক সংগঠন ‘জাগো শরীয়তপুর’-এর উদ্যোগে শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভকারীরা সড়কে বসে অবস্থান নিলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং সড়কের দুপাশে চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ‘জাগো শরীয়তপুর’-এর আহ্বায়ক আমিন মোহাম্মদ জিতু, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন হাওলাদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির এবং জেলা শিবিরের সভাপতি শাখাওয়াত কাওছার। তাঁরা জানান, শরীয়তপুরের ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে জেলা ঢাকার সঙ্গে থাকা বেশি যুক্তিসঙ্গত। ফরিদপুর বিভাগের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রশাসনিক কাজে জনগণ দুর্ভোগে পড়বে। বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শরীয়তপুরের দাবি উপেক্ষা করলে আরও কঠোর আন্দোলন হবে।

‘জাগো শরীয়তপুর’ জানায়, ২০১৫ সালে ফরিদপুর বিভাগ ঘোষণার সময়ও শরীয়তপুরে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল। পরে ২০২২ সালে ‘পদ্মা বিভাগ’ নামের একটি প্রস্তাব আসে, যা নিকার বৈঠকে অনুমোদিত হয়নি। সম্প্রতি ৮ সেপ্টেম্বর প্রি-নিকার বৈঠকে ফরিদপুর ও কুমিল্লাকে নতুন বিভাগ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও গণসংযোগের মাধ্যমে দাবির প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, “প্রস্তাবিত ফরিদপুর বিভাগের সঙ্গে শরীয়তপুর জেলাকে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। কিছু সময়ের জন্য সড়কে অবস্থান করলেও জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হলে তারা সড়ক ছাড়েন।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে