পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের মারিয়াস্থল মৌজায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ,হামলা,মারপিট ও বাড়িঘর ভাঙ্চুরের ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে ও বিকেলে। এ ঘটনায় তিনটি বাড়ি ভাঙ্চুর করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলা ও মারপিটে মারাত্মক আহত হয়েছেন দুইজন। তাদেরকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন আঃ মজিদের ছেলে শরিফুল ইসলাম ও ইমদাদুল মাস্টারের ছেলে বাবলু। মারিয়াস্থল গ্রামের আলমগীর গং ও রবিউল-আশরাফুল গং এর মধ্যে এই বিরোধ চলছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগে জানা গেল,মঙ্গলবার সকালে আশরাফুল গং এর লোকজন জমির ফসলে সার ছিটাতে গেলে আলমগীর-শিমুল গং সশস্ত্র অবস্থায় তাদের উপর হামলা করে মারপিট করে। তাদের মারপিটে শরিফুল ও বাবলু মারাত্মক আহত হন। এদিন বিকেলে আশরাফুল গং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আলমগীর গং এর বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙ্চুর ও লুটপাট করে বলে অভিযোগ। তারা হামলা চালিয়ে আলমগীর,শিমুল ও মজনুর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙ্চুর করে। এসময় গরু,ছাগল ও হাঁস-মুরগী লুটপাট করা হয় বলেও অভিযোগ। শিমুলের স্ত্রী শাপলা খাতুন বলেন,“মঙ্গলবার বিকেলে আশরাফুল-নজরুল গং অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙ্চুর করেছে। আমাদের হত্যারও চেষ্টা করে। পুলিশের সাহায্য চেয়েও সময়মতো পাইনি” যদিও আশরাফুল গং এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,নিজেরাই ভাঙ্চুর করে আমাদের উপর মিথ্যে অভিযোগ করছে।
হান্ডিয়াল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাব ইন্সপেক্টর সুব্রত সরকার জানান,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হামলা ও ভাঙ্চুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের মারপিটে আহত হয়েছেন ২ জন। হারিয়ে যাওয়া গরু ও ছাগল উদ্ধার করে শিমুল গং কে দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে,হান্ডিয়াল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল করিম মাস্টার,তার ভাই আঃ রহমান,আঃ আজিজ,আঃ মজিদ,শামসুল আলম,নজরুল,নজির প্রাং গং ক্রয়সূত্রে মারিয়াস্থল মৌজার ৮ একরের বেশি জমির মালিক। দীর্ঘ প্রায় ৪ যুগ ধরে তারা এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। এসএ রেকর্ড ও আরএস রেকর্ড তাদের অনুকূলে।
মারিয়াস্থল মৌজার ১১ একর ৬০ শতাংশ জমির ডিএস রেকর্ড অনুযায়ী মালিক নুরুল হক সরকার গং। ১৯৫১ সালে ওই জমি নিয়ে খাজনার মামলা করেন সরকার পক্ষ। মামলায় সমস্ত জমি সরকারি হয়ে যায়। পরবর্তীতে সরকার নিলামে ওই জমি বিক্রি করেন। এলাকার বাসিন্দা শশধর হলদার নিলামে জমি ক্রয় করেন। এরপর শশধর হলদারের নামে এস এ রেকর্ড হয়। এরপর রবিউল করিম-আঃ মজিদ গং ৮ একরের বেশি জমি ক্রয় করে ৪৫ বছর ধরে ভোগদখল করছেন। সম্প্রতি প্রতিপক্ষ আলমগীর হোসেন গং এই জমি নিজেদের দাবি করে জবরদখলের অপচেষ্টা করছেন। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ইতোপূর্বে একাধিবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জমির ধান কেটে নেওয়াসহ বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙ্চুর হয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ একাধিবার বৈঠক করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের সিদ্ধান্ত দেন,দীর্ঘদিন ধরে এক পক্ষ জমি চাষাবাদ করছে,তাদের নামে এসএ ও আরএস রেকর্ড। আইনগতভাবে জমি তারাই পাবেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ আলমগীর গং এ সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন। তারা যেকোন মূল্যে জমির দখল চায়। এনিয়ে বিরোধ চলমান রয়েছে।