আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল শনিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক এক সংলাপে যোগ দিয়ে বললেন, আওয়ামী লীগের কিছু সন্ত্রাসীর জামিন হয়েছে, এর দায় বিচারপতিদের। প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব ছিল তাদেরকে অপসারণ করা। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আওয়ামী লীগের আমলে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছিল তারা, এখন কেন তাকে নিয়ে কথা বলেন না?
আসামিদের হাইকোর্টে প্রদত্ত জামিন নিয়ে আইন উপদেষ্টাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় বাতিল হলে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক কি আইনমন্ত্রীকে দোষ দিয়েছিলেন? শামসুদ্দিন মানিকের উদ্ভট কর্মকাণ্ডের জন্য কি তাকে নাকি আইনমন্ত্রীকে দোষ দিয়েছিলেন? তাহলে এখন কেন আইন উপদেষ্টাকে দোষ দেন? যেসব বিষয়ের সঙ্গে আইন উপদেষ্টার কোনো সম্পর্ক নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে তার কিছু করারও নেই।”
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, “তাকে মূলত দুইটি কারণে দোষারোপ করা হয়। প্রথমত, এর মাধ্যমে ভিউ ভালো হয়, ব্যবসা ভালো হয়, মনিটাইজেশন হয়। আসিফ নজরুল নামে গালি দিলে একটু টাকা আসে। দ্বিতীয়ত, এখানে একটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। তাকে দুর্বল করলে বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন সহজ হয়।”
এছাড়া তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তত তিন-চারজন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। ‘এই অন্যায় আক্রমণ, অন্যায় সমালোচনা, সারাক্ষণ গালাগালি, অশ্লীল অশ্রাব্য গালাগালি, প্রাণনাশের আশঙ্কা ও অবর্ণনীয় জীবন-এই জীবন কে উপভোগ করে? প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘এটা একটা দল। একজন পদত্যাগ করলে আরেকজনের মনোবল নষ্ট হবে, আরও দাবি আসবে, আমরা কোনো কাজ করতে পারবো না। শুধু কাজ করে যাও।’ সেজন্য কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন বাংলাদেশে থাকবো, সব কিছুর উত্তর দেবো’-যোগ করেন আইন উপদেষ্টা।