দেশের মধ্যে পেঁয়াজ আবাদে প্রথম পাবনার সুজানগরের এ বছর মৌসুমী পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজার মন্দা হওয়ায় পেঁয়াজ চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মৌসুমী পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭ হাজার ৭‘শ ৫০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১‘শ হেক্টর বেশি জমিতে। ইতিমধ্যে জমি থেকে মৌসুমী পেঁয়াজ উঠানো শেষের দিকে। এ বছর পেঁয়াজের ফলনও হয়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক ভাল। উপজেলার মানিকহাট গ্রামের আদর্শ পেঁয়াজ চাষী ওমর আলী প্রামাণিক বলেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর প্রতিবিঘা জমিতে সাধারণ জাতের পেঁয়াজের ফলন হয়েছে কম পক্ষে ৭০মণ। আর উন্নত জাতের পেঁয়াজের ফলন হয়েছে ১‘শ থেকে দেড়‘শ মণ। তবে হাট-বাজারে পেঁয়াজের বাজার একদম মন্দা হওয়ায় পেঁয়াজ চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আদর্শ কৃষক কামরুজ্জামান বলেন সার, বীজ এবং শ্রমিকসহ প্রতিমণ পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১১‘শ থেকে ১২‘শ টাকা। অথচ বর্তমানে হাট-বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮‘শ থেকে ১হাজার টাকা দরে। এ হিসাবে কৃষকের প্রতিমণ পেঁয়াজে লোকসান হচ্ছে ৩‘শ থেকে ৪‘শ টাকা। একই এলাকার কৃষক আব্দুর রউফ বলে উৎপাদন খরচ অনুযায়ী প্রতিমণ মৌসুমী পেঁয়াজের দাম কম পক্ষে ১৫‘শ টাকা হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় কৃষকের উৎপাদন খরচই উঠবেনা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন বর্তমানে হাট-বাজারে পেঁয়াজের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি। সেকারণে বাজার মন্দা। তবে ২/১মাসের মধ্যে দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।