রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের বিধ্বস্ত ও পরিত্যক্ত কার্যালয়ের জায়গায় ‘অর্পিত সম্পত্তি’র সাইনবোর্ড টানিয়েছে জেলা প্রশাসন। রাজশাহী নগরীর কুমারপাড়ায় অবস্থিত।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জায়গাটিতে এই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, জায়গাটি ‘ক’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি (ভেস্টেড অ্যান্ড নন-রেসিডেন্ট প্রপার্টি)। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এই সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও কালেক্টর। জেলা প্রশাসনের টানানো সাইনবোর্ডে সম্পত্তিটির বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সম্পত্তিটি রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানার রামপুর মৌজায় অবস্থিত। এর জেএল নম্বর ১০, খতিয়ান নম্বর ১৮ এবং দাগ নম্বর ২৮১। জমির শ্রেণি ‘বাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মোট পরিমাণ ০.৪৯৫৬ একর। এছাড়া ভিপি কেস নম্বর হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ২/৭৬।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে কুমারপাড়ায় অবস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত ওই জায়গাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে প্রকাশ্যে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় এর আসবাবপত্র লুট হয়। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার ব্যানারে বুলডোজার দিয়ে কার্যালয়টি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর আরও দু’দফায় কার্যালয়টি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলে কতিপয় ব্যক্তি এর ইট ও রড লুট করে নিয়ে যায়। সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও জুলাই যোদ্ধাদের নামে পরিত্যক্ত এই জায়গাটিকে পাবলিক টয়লেট (গণসৌচাগার) ঘোষণা দিয়ে সাইনবোর্ড লাগানো হয়। তবে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও জুলাই যোদ্ধারা রাতের বেলা সাইনবোর্ডটি সরিয়ে নেন।এরপর মূল মালিক সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছেন দুর্জয় মৈত্র নামের এক চিকিৎসক। দুর্জয় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট পূর্ণিমা ভট্টাচার্যের ছেলে। সর্বশেষ আজ সোমবার বেলা ১১ টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের জায়গায় ‘অর্পিত সম্পত্তি’র সাইনবোর্ড টানিয়েছে জেলা প্রশাসন।