পটুয়াখালীতে অবৈধভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে কালিকাপুর ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ জব্বার এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন উক্ত মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা আলহাজ্ব মাওলানা জয়নুল আবেদিন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার সরজমিন তদন্ত করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আকরাম হোসেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারী কালিকাপুর ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য মিটিংয়ের আহবান করেন সুপার মোঃ জব্বার।সেখানে শিক্ষকদের মধ্যে এক পক্ষ পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি লিটন গাজীর ভাই সুমন গাজীকে কমিটির সভাপতির নাম প্রস্তাব করেন। অপর পক্ষ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহমেদ বায়জীদ পান্না মিয়াকে সভাপতির নাম প্রস্তাব করেন। আর এ নিয়েই দ্বন্দ্ব শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে। পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারী পূনরায় আবার প্রতিষ্ঠাতা জয়নুল আবেদিনকে কোন নোটিশ না দিয়ে মাদ্রাসায় ডাকেন সুপার। সেসময় নতুন কমিটির প্রস্তাবে সই না করে চলে যান জয়নুল আবেদিন। পরে ২২ ফেব্রুয়ারী নতুন এডহক কমিটি গঠনের সুপারিশের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাঠায় সুপার। অভিযোগ রয়েছে ছাত্র অভিভাবকদের কে না জানিয়েই নিজেদের মধ্য থেকে ৪ জন অভিভাবক প্রতিনিধি নেয় সুপার। এমনকি যারা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নয় তবুও তাদের ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। যাতে কমিটি গঠনে সহজ হয় সুপারের। এছাড়া সুপারের পছন্দমত শিক্ষকদের মধ্য থেকে তিনজনকে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে ম্যানেজিং কমিটিতে রাখা হয়।
কালিকাপুর ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ জব্বার বলেন, কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। তবে ভোটার তালিকায় যাদের নাম রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী মাদ্রাসার ছাত্র না এমন প্রশ্নে, কোন উত্তর না দিয়ে সুপার বলেন এক সপ্তাহ সময় দিলে দেখাতে পারব। তাছাড়া আমার কাছে কোন কাগজ নাই বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালী সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আকরাম হোসেন জানান, অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিভাবকদের ভোটার তালিকায় অসংগতি রয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সে বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি তবে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগকারী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা মাওলানা জয়নুল আবেদিন বলেন, সুপার আমার সাক্ষর জাল করে নতুন এডহক কমিটি গঠনের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া কোন অভিভাবকদের না জানিয়েই সবকিছু করছে সুপার।