ঘোড়ার ক্ষতের ওপর বসে পর্যটকদের বিনোদন

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ঘোড়ার ক্ষতের ওপর বসে পর্যটকদের বিনোদন

দেশের সর্বদক্ষিণের সাগর কন্যা কুয়াকাটা মানেই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মায়া আর পর্যটকদের ভিড়। সেই ভিড়ের মধ্যেই চোখে পরে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ানো মানুষের আরেক দৃশ্য। বাহির থেকে ছবিটি নিরীহ, এমনকি আনন্দময় মনে হতে পারে। কিন্তু একটু কাছে গেলেই ভেঙে পরে সেই রঙিন আবরণ।

ঘোড়াটির  পিঠে গভীর ক্ষত। কম্বলের আড়ালে লুকিয়ে রাখা সেই ক্ষত ঢেকে রাখা হয়েছিল একটি শক্ত স্টিলের প্যাড দিয়ে। প্রাণীটির যন্ত্রণাকে চাঁপা দিয়ে ‘স্বাভাবিক’ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু যন্ত্রণা কী চাঁপা থাকে।

প্রতিবার কোনো না কোন পর্যটক পিঠে উঠতেই সেই চাঁপ কয়েকগুণ বাড়ছিল। আর তখনই হঠাৎ ছিটকে ফেলছিল আরোহী এক পর্যটককে। অসহ্য কষ্টের বিরুদ্ধে সোমবার বিকেলে এক নীরব প্রতিবাদ করেছিল অবলা এ প্রাণীটি। সমুদ্র সৈকতে ঘটনাটি চোখে পরতেই এগিয়ে আসেন পর্যটকরা। তারা কম্বল সরানোর পর যে দৃশ্য সামনে আসে, তা নিছক অবহেলা নয়। তা দেখে অনেকেই বলেছেন এটি আরেক ভয়াবহ নির্যাতন।

ক্ষতের শরীর নিয়েই ঘোড়াটি টেনে নিয়ে যাচ্ছে মানুষের বিনোদনের ভার। কোনো চিকিৎসা নেই, বিশ্রাম নেই। আরো উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে ঘোড়াটি চালানোর দায়িত্বে দেখা গেছে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের। নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ সব মিলিয়ে বিষয়টি শুধু প্রাণী নির্যাতন নয়, শিশুর নিরাপত্তার দিক থেকেও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়ভাবে ঘোড়ার রাইড পর্যটনের অংশ হয়ে উঠেছে বহুদিন। কুয়াকাটায় অন্তত ১৫টি ঘোড়া রয়েছে। তারমধ্যে দুই-তিনটি সুস্থ। বাকিগুলো অপ্রাপ্তবয়স্ক আর রুগ্ন। প্রাণীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, বিনোদনের আড়ালে এমন নিষ্ঠুরতা চলতে থাকলে সেটি আর বিনোদন থাকে না, হয়ে ওঠে সহিংসতা। বিষয়টি তারা টুরিস্ট পুলিশকে জানিয়েছেন। এমনকি ঘোড়ার পিঠে ব্যবহৃত লোহার সিট বেল্ট জব্ধ করে পুলিশের কাছে রাখা হয়েছে।

এনিম্যাল লাভার অব পটুয়াখালী টিমের সদস্য কেএম বাচ্চু বলেন, ঘোড়ার রাইডসের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। পাশাপাশি আঘাত পাওয়া প্রাণীকে অবিলম্বে কাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে সেই তদারকি প্রায় নেই বললেই চলে। প্রতিদিন সাত সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের বিনোদনের জন্যা ঘোড়াগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্রাম মানে পর্যাটকশূন্য কুয়াকাটা। সেটি তেমন একটা দেখা যায় না। তাই ক্লান্ত ঘোড়ার বিশ্রাম মেলেনা।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, একটি অসুস্থ ঘোড়ার পিঠ থেকে লোহার তৈরি স্যাডলবেল্ট পুলিশ বক্সে রাখা হয়। অসুস্থ ঘোড়াকে যাতে সৈকতে নামানো না হয়, সে বিষয়ে মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। অন্য ঘোড়াগুলোর অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।