পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষিকার হাতে সহকর্মী শিক্ষিকা বেত্রাঘাতের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ১৩ নম্বর ইন্দুরকানী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষিকা আসমা আক্তার তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে লাইব্রেরিতে থাকা একটি বেত দিয়ে সহকর্মী শিক্ষিকা হালিমা খাতুনকে আঘাত করেন। ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে, উপস্থিত অন্য শিক্ষকরা প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। পরে তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নিরাপদে সরে যান। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হালিমা খাতুন জানান, সকালে শিক্ষার্থীদের নিয়ে খেলাধুলার কার্যক্রম শেষে স্কুলে ফেরার পর আসমা আক্তার তার সঙ্গে অশোভন ভাষায় কথা বলেন এবং তাকে কাজ না করার অভিযোগে গালমন্দ করেন। এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটির সময় তিনি বেত দিয়ে আঘাত করেন, যার মধ্যে কয়েকটি আঘাত তার শরীরে লাগে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা আসমা আক্তার বলেন, হালিমা খাতুন তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আঘাতের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেকেন্দার আলী বলেন, “লাইব্রেরিতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা শুনেছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন বলেন, “বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, আমি এ বিষয়ে কিছু শুনিনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।