প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর থেকে জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে টাকা আত্মসাৎ, গালিগালাছ মারপিট, খুন জখমের হুমকী ও বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও ননদ-ননদাই এর বিরুদ্ধে। এব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগি প্রবাসীর স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা মিম ও তার পিতা মিজানুর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, প্রায় দুই বছর পূর্বে উজিরপুর গ্রামের মিজানুর রহমান গাজীর কন্যা সাদিয়া সুলতানা মিমের সাথে শ্যামনগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী শহিদুল ইসলামের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের ৪ মাস পর জামাই পুনরায় সৌদিতে যায়। তাদের বিয়ের আগে থেকে জামাই প্রতিমাসে বোন-বোনাইয়ের কাছে টাকা পাঠাত। বিয়ের পরে স্ত্রীকে তার ব্যক্তিগত খরচের জন্য মোবাইলে কিছু কিছু টাকা পাঠাত। এনিয়ে শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, ননদ-ননদাই তার সাথে শত্রুতা শুরু করে। ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে তারা ছেলে একাউন্টে টাকা পাঠাবে প্রলোভন দেখিয়ে তার নামে অগ্রনী ব্যাংক শ্যামনগর শাখায় ১০২০০০৬৫৪০৭০ নং হিসাব খোলায়। এরপর উন্নয়ন এনজিও'র সাথে যোগসাজসে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কয়েকটা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে এনজিওতে জমা দিয়ে তারা ২ লক্ষ টাকা ঋণ উঠায়। এরপর আমার স্বাক্ষর করা চেক ব্যবহার করে স্বামীর পাঠানো টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেয়। ষড়যন্ত্র করে এনজিও ও ব্যাংক থেকে সাদিয়া টাকা তুলে লুটপাট করেছে বলে অপবাদ রটিয়ে নানা ছলছুতায় গালি গালাজ ও মারধর করে বাড়ী থেকে তাড়ানোর পায়তারা করতে থাকে। এবং ৬/১২/২৪ তারিখ তাকে গালি গালাজ করে বাপের বাড়ি যেতে হুমকী দেয়। স্বামীর ঘর কেন ছেড়ে যাব বলে প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো দা দিয়ে বার বার খুন জখম করতে তেড়ে আসে। এক পর্যায়ে তোর কারনে আমার ভাই আমার কাছে টাকা পাঠায় না, তুই বাড়ী ছেড়ে চলে যাবি, আর না হলে তোকে যেকোন সময় মেরে খুন জখম করবো, আর না হলে তোকে মিথ্যা কেলেঙ্গকারী দিয়ে ভাইয়ের কান ভাঙ্গানী দিয়ে তোকে স্বামীর বাড়ী থেকে বিতাড়িত করবো মর্মে আসমা খাতুন আস্ফালন করে। এব্যাপারে শ্যামনগর থানায় মিজানুর রহমান বাদী জিডি নং -১৮১০ করেন।; তৎকালীন এসআই মোশাররফ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধু নির্যাতন থেকে বিরত থাকতে প্রাথমিক ভাবে সতর্ক করেন। তারা মিলেমিশে থাকবে অঙ্গীকার করলেও পরবর্তীতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সবাই মিলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন এবং জোর পূর্বক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে টাকা আত্মসাৎ, মানহানি ও স্বামীর নিকট অবিশ্বাস সৃষ্টি করে সংসার ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন সাদিয়া ও তার পিতা মিজানুর রহমান।