নওগাঁর ধামইরহাটে মঙ্গলবাড়ী শহীদ আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বিরোধ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সম্প্রতি চরম আকার ধারণ করেছে। হামলা, শিক্ষক লাঞ্ছনা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে সহকারী শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দীর্ঘ তিন বছর আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে আবুল কালাম আজাদ পুনরায় স্বপদে বহাল হন। আদালতের নির্দেশনাকে তোয়াক্তা না করে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। শিক্ষাবোর্ডের বিধি অনুযায়ী তাকে একাধিকবার প্রদানকৃত নোটিশের জবাব না দেওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলাও দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে শূন্যপদে বিধি মোতাবেক নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিলে ওই শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়ে নিয়মিত পাঠদান করে যাচ্ছেন। এদিকে আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে বিদ্যালয়টির মান উন্নীত হয়ে স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ) শাখা চালু হয়।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন বরখাস্তকৃত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস। অধ্যক্ষের অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলকে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এবং দায়িত্ব্বপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালকে হুমকি-ধামকি প্রদান করেন। এমনকি শিক্ষকদের সামনে প্রকাশ্যে তাকে লাঞ্ছিত করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল কুদ্দুস স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিসহ অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও লাঠিয়াল হিসেবে পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে একটি মিশ্র গ্রুপ গঠন করেন। পরবর্তীতে এসব ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি স্কুলে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে কলেজ প্রধানের নিকট থেকে। এতে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও, ভুক্তভোগীদের দাবি প্রভাবশালী মহলের কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয় এবং বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরসহ আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। যাব প্রভাব পড়েছে কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থায়-ভুক্তভোগী হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত ১৩ এপ্রিল অর্থ আত্মসাতের মামলায় আব্দুল কুদ্দুস খালাস পাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, মামলায় অব্যাহতি পাওয়াার পর তিনি আবারও দলবল নিয়ে প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা শুরু করেন।
অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস বলেন,‘আদালতের রায় পেয়ে আমি প্রধান শিক্ষক তথা প্রিন্সিপালের নিকট গিয়ে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কাগজ আমি চাই, এতে কাগজ না দিয়ে উল্টো আমার উপরচড়াও হয় অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ।’
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আব্দুল কুদ্দুস স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীসহ স্কুলে হামলা চালান বলে অধ্যক্ষ অভিযোগ করেছেন। এতে একাধিক শিক্ষক লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে।
অধ্যক্ষ আরও অভিযোগ করেন, উক্ত অর্থ আত্মসাৎ মামলার তদন্তের দায়িত্ব তৎকালীন সিআইডির ওপর ন্যস্ত ছিল। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বর্তমান ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি তদন্তে অর্থের পরিমাণ কম দেখিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন।’
বর্তমানে পুরো ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও আজিবন সদস্য কে.এম লায়েক আলী বলেন,‘ ১ যুগ মামলায় লড়ে অভিযোগ মিথ্যা প্রমানকি হওয়ায় আব্দুল ক্দ্দুসের পক্ষে রায় পাওয়ায় আমরা অধ্যক্ষের নিকট গিয়ে অভিযোগপত্রের কাগজপত্র চাইলে অধ্যক্ষ তা না দিয়ে নিজেই আমাদের উপর চড়াও হয়ে আক্রোশমুলক কথাবার্তা বলেন।