পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আটককৃত ৪ জন মহিলা দালালকে কারাদন্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এসকল মহিলা হাসপাতালের আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকস সেন্টারে রোড়ি ভাগিয়ে নিয়ে যেতো। দীর্ঘদিন ধরেই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকস সেন্টারের মালিকরা মহিলা দালালের মাধ্যমে হাসপাতালে আসা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে হাসপাতাল থেকে চারজন মহিলা দালালকে আটক করে স্থানীয়রা। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ ওমর ফারুক বুলবুলের কাছে হাজির করলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীকে অবগত করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী ভ্রাম্যমান আদালতে চারজনকে তিন দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন,পৌর সদরের আফ্রাতপাড়া মহল্লার শাহ আলমের স্ত্রী রহিমা খাতুন (৩৩), নতুন বাজার এলাকার হরেন চন্দ্র দাসের মেয়ে অনিতা দাস (৪৫),দোলং মহল্লার রাজিব হোসেনের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৩৭) ও বাদল সরকারের মেয়ে নার্গিস খাতুন (৩০)।
এদিকে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত হাসপাতাল গেটে অবস্থিত পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালান। এসময় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ও বিভিন্ন অপরাধে এই প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের জন্য কার্যক্রম স্থগিতাদেশ দেন। একই সাথে হাসপাতালের পাশে চৌধুরীপাড়ায় অবস্থিত দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ও ডায়াগনস্টিকের সঠিক সরঞ্জামাদি না থাকায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং ৩০ দিনের মধ্যে সকল বৈধ কাগজপত্র চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফয়সাল মাহমুদ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ ওমর ফারুক বুলবুল,আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ হুমায়ুন কবির,চাটমোহর বিসিডিএসের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক,থানা পুলিশ,আনসার সদস্য।