কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে দুমড়ে মুচড়ে পড়ে আছে একটি কনক্রিটের ব্রিজ। তার ওপর দেয়া হয়েছে কাঠের পাটাতন। কিন্তু সেটিও এখন নড়বড়ে হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী। তবুও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন হাজারও মানুষ। উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মাদাইখাল গ্রামে কচুয়ার খালের ওপর ১৪ বছর আগে নির্মাণ করা হয় ৪০ ফুট দৈর্ঘের এই ব্রিজটি। পরে ২০১৭ সালের বন্যায় পানির তোড়ে ব্রিজটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে যাতায়াতের দুর্ভোগে পড়েন ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মাদাইখাল, বড়ভিটা, জামতলা, বিলাতিরভিটা, কচুয়ারপাড়সহ ১০টি গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ ও কেদার ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙ্গা ব্রিজের স্থলে নতুন ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। দু’পাড়ের মানুষের কৃষিপণ্য আনা নেয়া, স্কুল কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেয়াসহ নানামুখী ভোগান্তিতে পড়তে হয় এসব মানুষকে। এমনকী দুর্ঘটনার কবলেও পড়েন অনেকে।
স্থানীয় রাধাপদ রায়, মিজানুর রহমান জানান, প্রায় ১০ বছর আগে ব্রিজটি বন্যায় ভেঙ্গে গেলেও নতুন করে ব্রিজটি নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অথচ এই পথে প্রতিদিন শতশত মানুষ চলাচল করেন। কৃষক আমজাদ হোসেন, জানান ব্রিজের দুপাড়ে কৃষকদের ফসলী জমি রয়েছে। বর্তমানে ধানের মৌসুম। ধান কাটার পর এগুলো বাড়িতে আনা নেয়া কতটা যে ভোগান্তির এসব বলে বোঝানো যাবে না। মাধাইখাল এলাকার শরিফা খাতুন, আয়েশা বেগম জানান, অনেক সময় গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নিতে চাইলে এই ভাঙা ব্রিজের কারণে কোনো এ্যাম্বুলেন্স কিংবা মাইক্রোবাস তো দূরের কথা কোনো রিকশা, ভ্যানও যেতে চায় না। গেলেও ভাঙা ব্রিজে গিয়ে আটকে পড়তে হয়। এতে করে অনেকেই বিপদের সম্মুখিন হন। শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার, লাভলু মিয়া, রফিকুল ইসলাম জানায়, বর্ষাকালে দোলায় পানি হলে এই এই ব্রিজের উপর দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় যেতে পারেন না তারা। এখানে অনেক স্রোত থাকায় স্কুল যাওয়ার পথে অনেকে পড়ে গিয়ে বই খাতাসহ গা ভিজে যায় তাদের। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি করেন তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখ্খারুল ইসলাম জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের কচুয়ার খালে ২০১২ সালে নির্মাণ করা হয় ৪০ ফুট দৈর্ঘ ও ৮ ফুট প্রস্তের এ ব্রিজটি। তবে খালের গভীরতা ও দৈর্ঘ্য-প্রস্তের পরিমাপ অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় পানির তোড়ে ভেঙ্গে ব্রিজটি পড়ে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কচুয়ার খালের উপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।