কলাপাড়ায় ঝড় ও টর্নেডোতে ক্ষতি বাড়ছে

এফএনএস (মিলন কর্মকার রাজু; কলাপাড়া, ) : | প্রকাশ: ২ মে, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
কলাপাড়ায় ঝড় ও টর্নেডোতে ক্ষতি বাড়ছে

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গত তিন দিনে হঠাৎ ঝড় ও টর্নেডোতে শত শত ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  উপড়ে ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। এতে বিভিন্ন গ্রামে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ। শত শত গাছপালা ভেঙে রাস্তায় পড়ে আছে। ফসলের মাড় পানিতে তলিয়ে আছে, সেখানে এখন ফসলের পরিবর্তে ভাঙ্গা ঘরের অংশ ছড়িয়ে  ছিটিয়ে রয়েছে। হঠাৎ টর্ণেডোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলাপাড়ার নীলগঞ্জে। কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।  ইতিমধ্যে ৩০ পরিবারকে টিন ও খাদ্য  সহায়তা দেয়া হয়েছে । গত ২৮ এপ্রিল থেকে পহেলা মে সকাল পর্যন্ত কলাপাড়ার ১২ টি ইউনিয়নে হঠাৎ কাল বৈশাখী ঝড় ও কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী টর্ণেডো বয়ে যায়।  এতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আন্ধার মানিক নদী তীরবর্তী নীলগঞ্জ ইউনিয়নে। ঝড় ও টর্ণেডোর সাথে মুষলধারায় বৃষ্টি  ও দমকা বাতাসে গত তিনদিন ধরেই কলাপাড়া উপকূল জুড়ে  দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। এতে বসতঘরসহ ফসল হারিয়ে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো। নীলগঞ্জের অতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের অবস্থা এমন যে, এখন ভাত খাওয়ার থালা বাটি পর্যন্ত নেই।পড়নের জামা, কাপড় ছাড়া আর কোন কাপড়ও নেই। কিন্তু এসব পরিবারের সহায়তায় এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি কেউ। 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,  কেউ ঝড়ে উড়িয়ে নেওয়া হাঁড়ির ভেজা চাল, ডাল শুকিয়ে নিচ্ছে। কেউবা বই খাতা রোদে শুকাচ্ছে। কেউবা ভাঙ্গা ঘরে টিন, কাঠ ফসলের মাঠ ও গাছের উপর থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসছে।  ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য স্বপন, রহমান এবং স্বপন তালুকদার  বলেন, হঠাৎ আগুনের ফুলকির মতো এসে মুহূর্তের মধ্যেই ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়। ভাগ্য ভালো শিশু বৃদ্ধরা প্রাণে বেঁচে গেছে। এখন যে তারা আবার নতুন করে ঘর তুলবেন এই সামর্থ্য তাদের নেই।  তাদের হিসেবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।  নষ্ট হয়েছে ফসল। এমনকি ঘরের কোন মালামালই আর অক্ষত নেই।  কিন্তু তাদের সহায়তায় এখবও কেউ এগিয়ে আসেনি।

গ্রামবাসীরা বলেন, এমন ঝড়, বাতাস ও টর্নেডো তারা বহু বছর দেখেননি। মুহূর্তের মধ্যেই যেন সবকিছু উড়িয়ে নিয়ে গেছে। টর্নেডো যেখান থেকে গেছে সেখানে গাছপালা বিদ্যুতের খুঁটি সব কিছুই ভেঙে চুরমার করে দিয়ে গেছে। এসব পরিবারের সরকারি সহায়তা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।  নীলগঞ্জে নারী সমাজকর্মী ও সাবেক ইউপি সদস্য মাহিনুর বেগম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জরুরী খাদ্য  ও বসত ঘর সহায়তা দরকার। কোন পরিবারের রান্না করার পাতিল পর্যন্ত নেই।  আর রাত হলে শিশু নারীরা কোথায় থাকবেন এ নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে পরিবারগুলোর। কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম বলেন, গত তিন দিনের ঝড় ও টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারকে তারা ইতিমধ্যে এক বান্ডিল করে ঢেউটিন ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন।ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের তালিকা তৈরীর কাজ চলছে।  তাদের সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় জনপ্রতিনিধিরা তালিকা তৈরি করছে। তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।  ৩০ পরিবারকে গৃহ নির্মাণের জন্য এক বান্ডিল ঢেউটিন দেয়া হয়েছে।  পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে