পটুয়াখালীর বাউফল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও চারবারের সাবেক সভাপতি অতুল চন্দ্র পালকে (৬২) প্রকাশ্যে লাঞ্চিত করার পর কোন প্রকার বাড়াবাড়ি করার ফল ভালো হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন ওই সাংবাদিক ও তার পরিবার। উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মো. ফয়সাল খানের নেতৃত্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কক্ষে নিয়ে দরজা আটকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে ওই সাংবাদিককে। আর বাউফল থানা পুলিশের তালিকায় হামলাকারী ফয়সাল একজন অন্যতম সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে থানায় এন্তার অভিযোগ রয়েছে।
অতুল চন্দ্র পাল বলেন, তিনি দৈনিক ভোরের কাগজের বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি। গত ২৭এপ্রিল সকালে তিনি তার স্ত্রী অনিতা পালকে নিয়ে এক স্বজনকে চিকিৎসা করানোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। বেলা ১১ টার দিকে চিকিৎসকের খোঁজে জরুরী বিভাগের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি । এসময় কৃষক দল নেতা ফয়সাল তার বাঁ হাত ধরে টেনে জরুরী বিভাগের একটি কক্ষে নিয়ে দরজা আটকে ফয়সাল ও তার ছেলে (১৪) লাঞ্ছিত করে। ওই সময় ফয়সাল সাংবাদিক অতুল চন্দ্র পালকে দেয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে বুকে থাপ্পড় মাড়ে এবং তার ছেলে অন্ডকোষ চেপে ধরে। একপর্যায়ে ফয়সাল বলেন, তুই হিন্দু হয়ে জামায়াতে ভোট দিছোস। এসময় অতুল চন্দ্র পালকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। সাংবাদিক অতুল চন্দ্র পাল আরও বলেন, তিনি যখন তার স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন তখন মোটরসাইকেল থামিয়ে ফয়সাল হুমকি দিয়ে বলেন, এবিষয়ে বাড়াবাড়ি কিংবা পুলিশকে জানালে তোকে মেরে ফেলবো। এরপর সাংবাদিক অতুল চন্দ্র পাল ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন। আইনের আশ্রয় নিতেও ভয় পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ফয়সাল ও তার দুই ছেলে খুবই ভয়ংকর। দিনে-দুপুরে মানুষ কুপিয়ে আহত করেছেন। ইতিপূর্বে তার হাতে শিক্ষক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ লাঞ্চিত হয়েছেন। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেনি। এতএত অভিযোগ থাকা সত্তেও ৫ দিনেও ফয়সালকে গ্রেফতার বা আটক করতে পারেনি বাউফল থানা পুলিশ। এনিয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ বইছে উপজেলা জুড়ে এবিষয়ে কৃষকদল নেতা ফয়সাল খান বাউফলের সাংবাদিকদের বলেন, অতুল চন্দ্র পালকে লাঞ্চিত করা ও হুমকি দেওয়া হয়নি। তার সঙ্গে একটা ঝামেলা আছে। তার কারণে আমার তিন লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। সেই টাকা তিনি চেয়েছিলেন।
অতুল চন্দ্র পাল বলেন, ফয়সালের সঙ্গে তার কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য নাই। সাত-আট বছর আগে সজল সাহা নামে এক ব্যবসায়ীর জমিতে সীমানা দেয়াল নির্মাণ করিয়ে দেওয়ার জন্য ফয়সাল চাঁদা চেয়েছিলেন। তখন তার স্ত্রী সামসুনানাহার রিপা বাউফল পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। আমি পৌরসভার মেয়রের সহযোগিতায় কোন টাকা ছাড়াই ওই সীমানা দেয়াল নির্মাণে সহযোগিতা করেছিলাম। আমার কারণে ফয়সাল কোন টাকা পায়নি এটাই তার ক্ষোভ।
জানাগেছে, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রকাশ্যে এক বিএনপি নেতাকে মারধর করার অপরাধে ফয়সালকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই বিষয়ে একাধিক জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে ফয়সাল প্রথম আলোর সাংবাদিক এবিএম মিজানুর রহমানকে অশালীন ভাষায় গালাগালসহ প্রকাশ্যে হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল এবং অন্যান্য সাংবাদিকদের গালাগাল ও হুমকি-ধামকি দিয়েছিল। এরপর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি দলীয় পদ থেকে সেই অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার করে স্বপদে বহাল হন ফয়সাল। বহালের দুইদিন পরই আনিচুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে থানার অদূরে মারধর করে আহত করে ফয়সাল। সূর্য্য (১৪) নামের তার এক বখাটে ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র হলেও বাউফল পৌর শহরে সে কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তার উত্ত্যক্তের কারণে বাউফল আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী বিদ্যালয়ে যেতে পারছেনা। ভয়ে ওই শিক্ষার্থীর পরিবার আইনের আশ্রয় নিতেও পারছেন না। তার বখাটেপনার কারণে অতিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সমপ্রতি বিদ্যালয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আটকের পর বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। এসব অপরাধের ঘটনায় থানায় প্রকাশ্য বা গোপনে একাধিক সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিককে লাঞ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। ফয়সালকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।