রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সের ভবনে হাতুড়ির আঘাত

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ৪ মে, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সের ভবনে হাতুড়ির আঘাত
রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সের একটি দোতলা ভবন ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দোতলার ঘরগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। শুধু খিলানটি অবশিষ্ট রয়েছে। অক্ষত রয়েছে নিচতলার ঘর দুটি। এই ভবনটি পুঠিয়া রাজবাড়ীর সামনের অংশে পুঠিয়া-আড়ানী সড়কের পাশে অবস্থিত। স্থানীয়রা জানান, ভবনটিতে একসময় রাজবাড়ীর দারোয়ান নিতাই শিং বাস করতেন। এখন বাস করেন পুঠিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম সাবু। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা কমিটির সদস্য। কিছু দিন ধরে তিনি ভবনটি পুরোপুরি ভাঙার চেষ্টা করছেন। দুদফা তার কাজ বন্ধ করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। এটি কেনা সম্পত্তি বলে দাবি করছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও গবেষকেরা বলছেন, এই ভবনটি পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সের ভেতরেই। ১৮২৩ থেকে ১৮৩০ সালের দিকে ভবনটি নির্মিত হয়েছিল। এর প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যও রয়েছে। তাই ভবনটি ভাঙতে দেওয়া হবে না। ভবনটি মূল রাজবাড়ী ভবন থেকে প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণে। দেখা গেছে, যে ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে তার পেছনেই রাজবাড়ীর শিবমন্দির। মূল রাজবাড়ী ভবনের মাঠ থেকে এই ভবনটি বড়জোর ৫০ মিটার দূরে। পুরনো চুন-সুরকির দেয়াল ভেঙে ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। যোগাযোগ করা হলে সাবেক কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম সাবু বলেন, এই বাড়ির জমির পরিমাণ ৫ শতাংশ। এটা আগে মারোয়ারিদের সম্পত্তি ছিল। আমার দাদা ইয়াকুব আলী স্বর্ণকার পাকিস্তান আমলে কিনেছেন। আমাদের দলিল আছে। ভবন পুরনো হওয়ায় সেটা থাকার উপযোগী না। এ কারণে আমরা ভাঙার চেষ্টা করছি। এখানে নতুন ভবন করার ইচ্ছা আছে। পুঠিয়ার রাজপরিবার ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে গবেষণা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলা একাডেমি ‘পুঠিয়ার রাজবংশ: ইতিহাস ও স্থাপত্য’ নামে তার লেখা একটি বই প্রকাশ করেছে। কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রাজবাড়ী ঘিরে থাকা পুরনো স্থাপত্যে নির্মিত সব ভবনই রাজবাড়ী নির্মাণের কাছাকাছি সময়ে নির্মিত। এসব ভবনে রাজবাড়ীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকতেন। এই ভবনটিও তেমনই একটি ভবন। এটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য রয়েছে। এটা ভেঙে ফেলা কোনোভাবেই উচিত হবে না। এটিকে রক্ষা করতে হবে।’ পুঠিয়া রাজবাড়ীর কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমান বলেন, রাজবাড়ী ঘিরে থাকা মোট ২০টি স্থাপনাকে প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন হিসেবে ইতোমধ্যে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। আর তিনটি ভবন এখনও গেজেটভুক্ত হয়নি। যে ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে সেটি গেজেটভুক্ত না। কিন্তু এগুলো সবই রাজবাড়ী কমপ্লেক্সের ভেতরে। মহারানী হেমন্তকুমারীর মৃত্যুর পর অনেক সম্পত্তি স্থানীয় লোকজন নানা কৌশলে নিজেদের নামে করেছেন। এই ভবনটির ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। তিনি জানান, গত ১৪ এপ্রিল তারা প্রথম ভবনটি ভাঙার বিষয়ে জানতে পারেন। তখন মৌখিকভাবে মনিরুল ইসলাম সাবুকে ভবন ভাঙতে নিষেধ করা হয়। তখন ভাঙার কাজ বন্ধ হয়। কিন্তু রোববার সকাল থেকে আবার শ্রমিক এনে ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেন তিনি। খবর পেয়ে রোববারও কাজ বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে