রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অবৈধভাবে পুকুর খনন ও কৃষিজমির টপসয়েল কেটে বিক্রয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নতুন ইউএনও যোগদানের পর এ অভিযানে আরো গতি পেয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (০৪ মে, ২০২৬) বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গনিপুর ইউনিয়নের কুমানিতলা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কৃষিজমির মূল্যবান টপসয়েল কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের সত্যতা পাওয়া গেলেও ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ সময় একটি ভেকু মেশিন জব্দ করে অকেজো করা হয়।
একই দিন রাতে বাসুপাড়া ইউনিয়নের দয়ের ঘাট এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদের নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা এঁর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। অভিযানে দুষ্কৃতকারী কাউকে পাওয়া না গেলেও একটি ভেকু মেশিন ও একটি কাঁকড়া (মাটি পরিবহন) মেশিন স্পটে অকেজো করা হয়েছে।
এছাড়াও মচমইল বাজারের উত্তর পাশে রাজবাড়ীর পাশেও অভিযান চালানো হয়, তবে সেখানে কোনো দুষ্কৃতকারী বা যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, “স্থানীয়দের সহায়তা ছাড়া এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্মূল করা কঠিন। তাই সবাইকে সচেতন হয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
গত এক মাসের অভিযানের তথ্য:
উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে বাগমারায় মোট ১৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২১টি ভেকু মেশিন অকেজো করা হয়েছে। পাশাপাশি ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ মাটি কাটা ও পুকুর খননের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।