রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার অভয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সারওয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (ঘঞজঈঅ)-এর নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ মার্চ থেকে প্রধান শিক্ষক পদটি শূন্য রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো পদটিতে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র (রেকুইজিশন) পাঠানো হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একাধিকবার রেজুলেশন পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।
এ বিষয়ে শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঘঞজঈঅ-এর পরিচালক, রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল খালিক, আয়েশা পারভীন, হুমায়ন কবির ও বিলকিস পারভীন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৪ সালের ১৩ মে জারি করা এক চিঠিতে মো. সারওয়ার জাহানের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগকে অবৈধ উল্লেখ করে তাকে প্রধান শিক্ষক পদে এমপিওভুক্তির অযোগ্য বলে জানায়। এরপরও তিনি নির্দেশনা অনুসরণ না করে পদটি শূন্য রেখেছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ ঘঞজঈঅ-এর এক নির্দেশনায় এমপিওভুক্ত শূন্য পদে বাধ্যতামূলকভাবে ই-রেকুইজিশন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে এমপিও বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল। তবে এসব নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সারওয়ার জাহান মুঠোফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সরাসরি সাক্ষাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান। এদিকে, রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ পবিত্র হজ পালনের জন্য দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক আব্দুর রব সিদ্দীক বলেন, “অনেক অভিযোগ আসে, নির্দিষ্ট এই বিষয়টি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। অভিযোগটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান জানান, তিনি বর্তমানে দুই দিনের ছুটিতে রয়েছেন। ফাইল পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।