সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার পরিণত হচ্ছে বাংলার ভ্যানিসখ্যাত বরিশাল নগরী। একসময় এই শহরের প্রাণ যে সব খাল ছিলো, তা এখন দখল ও দূষনে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টি হলেই নগরীর সড়কগুলো ডুবে যায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে। সদর রোড, বগুড়া রোড, রুপাতলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বৃষ্টির পরপরই চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। নগরীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল ও দূষণের কারণে পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই নর্দমার পানি উপচে পরে ঢ়ুকে যাচ্ছে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।
তারা আরও বলেন, একসময় যেসব খাল ছিল শহরের প্রাণ, সেগুলো এখন দখল ও ময়লায় ভরাট হয়ে প্রায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। এতে করে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পরেছে।
জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে গত বছর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৭০১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই অর্থ কতোটা বাস্তবায়ন হয়েছে-তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে। এছাড়াও ২০২৩ সালে খাল খননের জন্য ৬ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।
সূত্রমতে, ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। একের পর এক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভিড়ে বাস্তবায়ন থমকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন নগরবাসী। নগরীর বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ বলেন, জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে হলে নতুন করে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন, প্রতিটি সরকারই জলাবদ্ধতা নিরসনের পরিকল্পনা নেয় কিন্তু বাস্তবায়নের অভাবে সেগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। তবে পুরোনো প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি স্পষ্ট না হলেও বর্তমানে নতুন করে ২৯টি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন।
বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান আক্তার শিরিন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিজে উপস্থিত থেকে খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। ইতোমধ্যে ২৯টি খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এর সুফল নগরবাসী দেখতে পাবে।
উল্লেখ্য, ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার দুই দশক পার করলেও জলাবদ্ধতা সমস্যা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা-পরিকল্পনা নয়, এবার দৃশ্যমান সমাধান দেখতে চান তারা।