রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট মহাবিদ্যালয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি পরিবর্তনকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। কলেজটির বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে সভাপতি পরিবর্তনের চেষ্টা এবং কোটি টাকার দুর্নীতি আড়াল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সভাপতি ও কাকনহাট কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নানের মেয়াদ এখনও প্রায় ১০ মাস অবশিষ্ট থাকলেও কোনো প্রকার পদত্যাগ বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই গোদাগাড়ী পৌর সদরের শ্রীমন্তপুর গ্রামের সারোয়ার জাহান দুরুল একজন ‘বহিরাগত’ ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ উদ্দেশ্যে কলেজের প্যাড ও সিল জাল করে গোপনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় বুধবার কাকনহাট চাররাস্তা গোডাউন মোড়ে সর্বস্তরের জনতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কলেজ সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে একটি বড় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালার পরিপন্থী এবং এটি একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি।
জানা যায়, গত বছর প্রায় ৮৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের পর তিনি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও রেজুলেশন খাতা নিয়ে যান, যা নিয়ে বর্তমানে মামলা চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে স্থায়ী বহিষ্কার থেকে রক্ষা এবং চলমান তদন্তকে প্রভাবিত করতেই তিনি এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন।
গত ৫ এপ্রিল কলেজে প্রাপ্ত একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চিঠির ভেতরের হাতের লেখা ও খামের ঠিকানা বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষের সঙ্গে মিলে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া চিঠিতে ব্যবহৃত কলেজের প্যাডটি জাল এবং সেখানে দাপ্তরিক নম্বরের পরিবর্তে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
এদিকে প্রশাসনিক অস্থিরতার কারণে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এইচএসসি ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রস্তুতিও ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে অবৈধ নিয়োগাদেশ স্থগিত এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।