বাগমারায়

শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও মোবাইল আসক্তি রোধে অভিভাবক সমাবেশ

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ১১:০৬ এএম
শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও মোবাইল আসক্তি রোধে অভিভাবক সমাবেশ
রাজশাহীর বাগমারায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় অবস্থিত আদর্শ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের হলরুমে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কলেজের অধ্যক্ষ জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মাহাবুর রহমান মনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগমারা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ড. মো. আব্দুল মুমীত। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আব্দুল মুমীত স্পষ্টভাবে বলেন, “শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মোবাইল ফোন ও অনলাইন গেমের অপব্যবহার তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখনই কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে একটি প্রজন্ম দিকহীন হয়ে পড়বে।” তিনি আরও বলেন, “সর্বপ্রথম আপনার সন্তানকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। আপনি সচেতন হলে আপনার সন্তান ভালো হতে বাধ্য।” অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্তানের প্রতি নিয়মিত নজরদারি ও সময় দেওয়ার বিকল্প নেই। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ জিয়াউল আলম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে না এসে দিনের পর দিন মোবাইলে ডুবে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন গেম ও অসৎ সঙ্গ তাদের পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত করছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।” তিনি আরও বলেন, “বাসায় বাচ্চাদের পড়ার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে—একটি নির্দিষ্ট পড়ার টেবিল থাকা জরুরি। মোড়ে মোড়ে সময় না কাটিয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে সময় দিন, তাদের প্রতি খেয়াল রাখুন। এ ক্ষেত্রে মায়েদের দায়িত্ব আরও বেশি।” অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক মতিউর রহমান বলেন, “শিক্ষা শুধু পরীক্ষার ফল নয়, এটি একটি জীবন গঠনের প্রক্রিয়া। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ছাড়া কোনোভাবেই তা সম্ভব নয়।” ট্রেড ইন্সট্রাক্টর গোলাম মোস্তফা মিন্টু বলেন, “কারিগরি শিক্ষায় হাতে-কলমে শেখার বিকল্প নেই। অনুপস্থিতি মানেই দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে পড়া।” সহকারী লাইব্রেরিয়ান গোলাম মোস্তফা শিক্ষার্থীদের বইমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মোবাইলের পর্দা নয়, বইয়ের পাতায়ই ভবিষ্যতের আলো লুকিয়ে আছে।” অভিভাবকদের পক্ষ থেকে আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা অনেক সময় সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালনে শিথিলতা দেখাই, যা তাদের বিপথে নিয়ে যায়। এখন থেকে আমরা আরও সচেতন থাকব।” হাফিজুর রহমান বলেন, “শিক্ষক ও অভিভাবক একসাথে কাজ করলে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব।” সমাবেশে কলেজের সকল শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সর্বসম্মতিক্রমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত ও মোবাইল আসক্তি নিয়ন্ত্রণে পরিবার-প্রতিষ্ঠান সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে