দেশের একমাত্র কঠিন শিলা খনি মধ্যপাড়া আজ অস্তিত্ব সংকটে। গত অর্থবছরে লোকসান সত্ত্বেও খনি কর্তৃপক্ষ সরকারকে ৯০ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে- এটি প্রমাণ করে, সঠিক নীতি ও ব্যবস্থাপনা থাকলে খনিটি জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে। অথচ নীতিনির্ধারণী দুর্বলতা ও অবহেলার কারণে খনিটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রথমত, বিদেশি পাথরের অসম প্রতিযোগিতা খনির জন্য বড় হুমকি। ভুটান ও ভারত থেকে আমদানিকৃত পাথর শুল্কমুক্ত হওয়ায় দাম কম, অথচ দেশীয় খনির উৎপাদন ব্যয় বেশি। বিস্ফোরক ও যন্ত্রপাতির ওপর উচ্চ শুল্ক থাকায় খনির খরচ আকাশচুম্বী। এই বৈষম্যমূলক নীতি দেশীয় শিল্পকে ধ্বংস করছে। দ্বিতীয়ত, সরকারি প্রকল্পে দেশীয় পাথর ব্যবহারে অনীহা খনিকে আরও বিপদে ফেলছে। রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তারা মধ্যপাড়ার পাথর কিনছে না। ফলে উৎপাদিত পাথর বিক্রি না হয়ে মজুত হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ ৭০ হাজার টন পাথর অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে, যার আনুমানিক মূল্য ৪৫০ কোটি টাকা। তৃতীয়ত, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা খনির কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে। আধুনিক ক্রাশার মেশিন না থাকায় উৎপাদন ব্যয় বেশি হচ্ছে। রেলপথ সংস্কার না হওয়ায় ট্রাকে পরিবহণ করতে গিয়ে খরচ আরও বাড়ছে। ভবানীপুর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রেললাইন সংস্কার হলে পরিবহণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসত। এ অবস্থায় করণীয় স্পষ্ট- সরকারি প্রকল্পে দেশীয় পাথর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। বিদেশি পাথরের ওপর শুল্ক আরোপ করে প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য আনা জরুরি। আধুনিক ক্রাশার মেশিন স্থাপন ও রেলপথ সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। খনির উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। আমরা মনে করি, মধ্যপাড়া খনি কেবল একটি শিল্প নয়, বরং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। একটি জাতীয় খনি ধ্বংস হওয়ার অর্থ হলো কর্মসংস্থান হারানো, আঞ্চলিক উন্নয়ন থেমে যাওয়া এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।