নতুন সরকারের সামনে আরেকটা বড় চ্যালেঞ্জ আছে। সেটি হলো প্রতিশ্রুতি পূরণ তথা প্রত্যাশার ব্যবস্থাপনা। কারণ, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে। তারা নির্বাচনে জয়লাভের ফলে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই প্রত্যাশা তারা রাতারাতি পূরণ করতে পারবে না। যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা অদূর ভবিষ্যতে সরকারের কাছ থেকে কী আশা করতে পারেন, সেটি বিএনপির পরিষ্কার করা উচিত হবে। দলটির কাছে তো কোনো জাদুর কাঠি নেই, যা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে বড় বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। তাই প্রত্যাশার ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। জাতীয় ইশতেহারের পাশাপাশি বিএনপির স্থানীয় নেতারাও নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সার্বিকভাবে এসব প্রত্যাশার ব্যবস্থাপনার কাজটি সহজ নয়। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট তৈরির জন্য নিয়মিত বা রুটিন কাজগুলো হয়তো অর্থ মন্ত্রণালয় করে রেখেছে। কিন্তু কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সরকার গঠন করতে যাওয়া দলকেই দিতে হবে। বিশেষ করে ইশতেহারের কোন বিষয়গুলো বাজেটে যুক্ত করা হবে, সেটি নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, তারা ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে আসতে চায়। এটি করতে হলে খুব বড় ধরনের বাজেট ঘাটতি রাখা যাবে না। আবার সীমিত বাজেট দিয়ে প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করা যাবে, সেটিও চিন্তার বিষয়। বিএনপি বলেছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতনের বিষয়টি তারা বিবেচনায় রাখবে। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুসারে এক লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ শুধু বেতনের জন্য দিতে হবে। তাহলে বিএনপি পরিবার কার্ড বা কৃষক কার্ডের মতো অন্য যেসব সামাজিক সুবিধার কথা বলেছে, সেগুলোর অর্থায়ন কীভাবে হবে, সেটিও ঠিক করতে হবে। নতুন সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য বহু ধরনের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থাকা অস্বাভাবিক নয়। সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়িয়ে তোলার ষড়যন্ত্রও হবে। মনে রাখতে হবে, দেশের অর্থনীতি দুর্বল এবং মানুষের জীবনযাপন কষ্টকর হলে যেকোনো দেশের সরকারের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়। সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনার পতনের অন্যতম কারণ ছিল শোচনীয় অর্থনীতি। অন্তর্বর্তী সরকার তা থেকে বের হতে পারেনি। কাজেই সরকারের প্রথম কাজ হচ্ছে, অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানো। প্রথমে নজর দিতে হবে, সাধারণ মানুষের নিত্যকার সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার দিকে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে।