নবাবগঞ্জে অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার

এফএনএস (মোস্তাফিজার রহমান মিলন; হিলি, দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
নবাবগঞ্জে অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে একাধিক ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভুল রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এতে চিকিৎসা নিতে এসে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের কাগজপত্র ও লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য নেই। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার নির্ধারিত মূল্য তালিকাও প্রকাশ্যে টাঙানো হয় না। ফলে রোগীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করা হচ্ছে।

ভাদুরিয়া বাজারের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ভুল রিপোর্ট পেয়েছি। পরে অন্য জায়গায় গিয়ে আবার পরীক্ষা করতে হয়েছে। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি গেছে।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, এখানে পরীক্ষার দাম একেক সময় একেক রকম নেওয়া হয়। কোনো নির্ধারিত তালিকা নেই। বাধ্য হয়েই পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে ভাদুরিয়া বাজারের কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের মধ্যে একজন মোরছালিন হোসেন বলেন, লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয়। আমরা নিয়ম মেনেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

ভাদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব দীপক চন্দ্র দাস বলেন, অনুমোদনহীনভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সোলায়মান হোসেন মেহেদী জানান, সরকারি অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়া কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিনাজপুর সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা ডা. মো. আসিফ ফেরদৌস বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ পাওয়া গেলে কাগজপত্র যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে