বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ব্র্যাক বটতলা এলাকায় অবস্থিত “নূরে মদিনা হাফেজিয়া কওমি মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং”শিক্ষা ও মানবসেবার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রচলিত কওমি শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাধারণত কওমি মাদরাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষাকেই প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে এই মাদরাসা কর্তৃপক্ষ মনে করে, একজন শিক্ষার্থীকে শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না; বাস্তব জীবনেও দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই এখানে হিফজ ও কিতাব বিভাগের পাশাপাশি চালু করা হয়েছে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
মাদরাসাটিতে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার শিক্ষা, গার্মেন্টস প্রশিক্ষণ, কার ড্রাইভিং, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, ওয়েলডিং ওয়ার্কশপসহ নানা বৃত্তিমূলক বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করছে। ফলে তারা ভবিষ্যতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যাদের বয়স ১০-১২ বছর এবং যারা কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী তাদের নিয়ে এ আয়োজন করা হয়েছে। এখানে নিজস্ব কম্পিউটারের মাধ্যমে হাতে কলমে কম্পিউটার শিখানো হচ্ছে। ওয়েলডিং ও গার্মেন্টস শিক্ষায় নিজস্ব ইকুইপমেন্ট না থাকলেও পার্শ্ববর্তী একটি কারখানায় গিয়ে নির্দিষ্ট এক সময়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ইলেক্ট্রিক্যাল কাজ এর জন্য মাদ্রাসায় প্রশিক্ষক এসে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।মাদ্রাসার নিজস্ব ড্রাইভিং প্রাইভেট কার থাকায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন।
শুধু শিক্ষা নয়, মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এতিম, অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় পরিচালিত এই বোর্ডিং সুবিধা অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর উন্নত হাফেজিয়া বিভাগ। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সহীহ তিলাওয়াত ও হিফজ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে অত্যন্ত যত্নসহকারে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুন্নতি আমল, নৈতিকতা ও আদর্শ চরিত্র গঠনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. হান্নান হোসেন সাগর বলেন,
“দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার এই উদ্যোগ মাদরাসা শিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা আলেম বা হাফেজ হবার পাশাপাশি দক্ষ ও স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবেও দেশ ও জাতির সম্পদে পরিণত হোক।” ইসলামী মূল্যবোধ ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয়ে “নূরে মদিনা হাফেজিয়া কওমি মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং”এ অঞ্চলে একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। সরকার,সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহল আরও এগিয়ে এলে প্রতিষ্ঠানটির সেবার পরিধি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।