দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তৎপরতা শুরু করেছেন চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম (বিপিএম)। বহুল আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দায়িত্বের শুরুতেই কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি, চট্টগ্রামের কোথাও অপরাধীদের অভয়ারণ্য গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। শুক্রবার ৮ মে জুমার নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকার দুটি পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি সীতাকুণ্ড মডেল থানা পরিদর্শনে যান এবং থানার সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার এই মাঠপর্যায়ের তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার জঙ্গল সলিমপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার নির্দেশনা দেন।
দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা, অবৈধ বসতি স্থাপন, ভূমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন নবাগত এসপি। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া অপরাধ নির্মূল সম্ভব নয়। যেকোনো অপরাধমূলক তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রামের কোথাও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুরসহ যেসব এলাকা অপরাধপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত, সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
পুলিশ সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নতুন পুলিশ সুপারের মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার এসআই ইদ্রিস আলী জানান, গত ৭ মে বৃহস্পতিবার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার কর্মস্থলে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই তিনি জঙ্গল সলিমপুর এলাকার দুটি পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং পরে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় এসে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এদিকে, বিকেলে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পরিদর্শনে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম ফুল দিয়ে নবাগত পুলিশ সুপারকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় থানার বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখেন তিনি এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে থানার কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি ও কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।