অবশেষে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পর্যটনপল্লী গঙ্গামতির সৈকতে যেতে পর্যটক-দর্শনার্থীর ভোগান্তি লাঘব হলো। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এ সৈকতের বেলাভূমে যেতে ভোগান্তি ছিল মূল পাঁকা সড়কের শেষপ্রান্ত থেকে একটি সোঁতা খাল পার হওয়া। ওই খালের উপরে একটি কালভার্ট করা হয়েছে। করা হয়েছে সংযোগ সড়ক। ফলে দীর্ঘ ৫০ বছরের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে। সদ্য বিদায়ী কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেন। অন্তত দুই মাস আগে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তারা স্বস্তিতে চলাচল করছেন। যাচ্ছেন গঙ্গামতি সৈকতে।
কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নের চরগঙ্গামতি মৌজার চরে ১১ দশমিক পাঁচ মিটার লম্বা এই বক্স কালভার্টটি নির্মাণ প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ছিল ৪১ লাখ ১৯ হাজার ২০১ টাকা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকসেদুল আলম জানান, এটি নির্মাণের ফলে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন পল্লী গঙ্গামতি সৈকতে যেতে পর্যটকের বর্ষাকালীন ভোগান্তি নেই। খেঁয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারপার হতে হবে না। লাল কাঁকড়ার চরখ্যাত গঙ্গামতি এখন পর্যটকের জন্য উপভোগ্য পর্যটনকেন্দ্র পরিণত হয়েছে। প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সৈকতে নেই সাগরের ভাঙন। নতুন নতুন চর জেগে উঠছে। ব্যপ্তি ক্রমশ বাড়ছে। জোয়ার-ভাঁটায় থাকছে ওয়াকিং জোন। নেই কুয়াকাটার মতো ভাঙন, দখল দূষণের ভয়াল দৃশ্য। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশ দিয়ে বহমান ছোট্ট খালটি পেরিয়ে এই সৈকতে যাওয়ার যতটুকু ভোগান্তি ছিল তা অবশেষে লাঘব হয়েছে। ফলে এ সৈকত ভ্রমণে পর্যটকের জন্য এটি একটি সুখবর বয়ে আনলো।
পর্যটক ইব্রাহীম শরীফ জানান, এই কালভার্টটি নির্মিত হওয়ায় সৈকতের এক-দেড়শ মিটার পথ পেরিয়ে যাওয়ার ৫০ বছরের ভোগান্তির অবসান ঘটলো। ভাড়াটে মোটরসাইকেল চালক মকবুল হোসেন জানান, পর্যটক নিয়ে এখন ১২ মাস সরাসরি গঙ্গামতি বিচে যেতে পারছেন। ধূলাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ মো. আব্দুর রহিম জানান, এটি নির্মাণ করায় পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের দীর্ঘ দিনের কষ্ট দূর হয়েছে। আগত মানুষের জন্য এটি একটি স্বস্তির খবর।