আসলাম চৌধুরীর

মাদক রুখতে পরিবার-শিক্ষক-সমাজকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ৯ মে, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
মাদক রুখতে পরিবার-শিক্ষক-সমাজকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মিলনমেলা পরিণত হয় সমাজ গঠন, নৈতিক শিক্ষা ও মাদকবিরোধী সচেতনতার এক শক্তিশালী বার্তাবাহী সমাবেশে। শনিবার ৯ মে সকালে উপজেলার ইপসা মিলনায়তনে আয়োজিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমিতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজের বর্তমান অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার এবং পারিবারিক দায়িত্ববোধ নিয়ে খোলামেলা ও প্রশংসনীয় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এমপি।

তিনি বলেন,  একজন শিক্ষক কখনো অবসরে যান না। একজন শিক্ষক অবসরের পর কীভাবে সম্মান নিয়ে ভালো থাকবেন, সেটি রাষ্ট্র ও সমাজকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। কোনো শিক্ষক যেন জীবনের শেষ সময়ে অবহেলিত বা অসম্মানিত না হন, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সমাজে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়া মাদকের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাদক এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। আবার অনেক সময় পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে টাকা পয়সা দিয়ে মাদক কারবারিরা এলাকায় নির্বিঘ্নে এসব উপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। শুধু পুলিশের পক্ষে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, এসব বিষয়ে পরিবারকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আপনার সন্তানকে আপনাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পরিবার যদি সচেতন না হয়, তাহলে সমাজকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে শিক্ষক, অভিভাবক, মসজিদ-মন্দিরের নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সমাজের আলোকবর্তিকা। আপনারা যদি মসজিদ, মন্দির বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকেন, তাহলে নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

শিক্ষাবান্ধব ও পরিবেশবান্ধব সীতাকুণ্ড গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সমাজের সচেতন মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সীতাকুণ্ডকে আদর্শ শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারলে সীতাকুণ্ডে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ড. ফসিউল আলম। তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জাতির মূল্যবান সম্পদ। তাদের অভিজ্ঞতা ও নৈতিক শিক্ষা সমাজকে আলোকিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সীতাকুণ্ড অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংবর্ধনা ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। মিলনমেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষকেরা বলেন, এমন আয়োজন শুধু পুনর্মিলন নয়, সমাজ ও নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে