বাংলাদেশকে অশান্ত করতে ভারত নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিডি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম)। শনিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এখানে দেখতে হবে শুভেন্দুর কোনো ফলোয়ার আছে কি না। এই গরুটা ক্ষমতায় আসার পরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছে- যুদ্ধ ঘোষণা করব, বাংলাদেশ দখল করে নেব। এটা তোমার বাপের দেশ তুমি দখল করে নিবা? আর আমরা যদি বলি- আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, সেভেন সিস্টার্স সব দখল করে নিব, তখন কী বলবা? আমরা তো সেটা বলছি না। আমরা বলি আমাদেরকে শান্তিতে থাকতে দাও। তুমি তোমার ঘরে শান্তিতে থাকো। তোমার ব্যাপারে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না, এটা তোমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু তোমরা প্রতিনিয়ত আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছ।’
অলি আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশকে অশান্ত করার ব্যাপারে ভারত এখন নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় কাদের সিদ্দিকীসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী ভারতে আশ্রয় নিয়ে বিবাড়িয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত বর্ডার অস্থিতিশীল করেছিল। এটাকে ঠিক করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী খুব ভালো লোক ছিলেন। ভদ্র লোক ছিলেন। উনি এ সমস্যা নিজেই সমাধান করেছিলেন। কিন্তু এখন ভালো লোক, ভদ্রলোক ভারতের ক্ষমতায় নেই।’ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশে অলি আহমেদ আরও বলেন, ‘বিদেশী দালালদের কারণে আমরা গত ১৯ বছর অনেক কষ্ট পেয়েছি। এই দালালদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের হাত-পা ভেঙে দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে।’ দেশের নানা সংকটের কথা তুলে ধরে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন বিদেশী বিনিয়োগ বন্ধ। যে সমস্ত বড় বড় প্রতিষ্ঠান আছে, তারাও নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। তাহলে আমাদের ছেলে মেয়েরা কোথায় যাবে? দেশে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা। জনগণ দুঃসহ জীবনযাপন করছে। পত্রিকা খুললেই দেখবেন প্রতিনিয়ত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। মানুষের মনে যখন অশান্তি হয়, মানুষ যখন সমস্যায় জর্জরিত হয়, সে তখন আর ডান-বাম দেখে না।’ অলি আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে, তিনি বেকার সমস্যা কীভাবে সমাধান করবেন। প্রতিবেশী ভারতকে কীভাবে সামাল দেবেন। উনার দলের লোকজন যে চাঁদাবাজি করছে, তার কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। এদের তালিকা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। উনাকে চিন্তা করতে হবে। আমরা কোনো সমস্যা করছি না। গত ৫০ বছরে আমরা যে সমস্ত ভুলভ্রান্তিগুলো সংবিধানে, প্রশাসনে দেখেছি সেগুলো ঠিক করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।’ ১১ দলীয় ঐক্য, রাজশাহী বিভাগ আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।