চৌদ্দগ্রামে

বিয়ের প্রলোভনে প্রবাসী ভাবিকে অন্তঃসত্ত্বা, দেবর জেলহাজতে

এফএনএস (মোঃ হাবিবুর রহমান খান; কুমিল্লা) : | প্রকাশ: ১৭ মে, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
বিয়ের প্রলোভনে প্রবাসী ভাবিকে অন্তঃসত্ত্বা, দেবর জেলহাজতে

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভাবিকে ধর্ষন করেছে দেবর। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার একমাত্র আসামী দেবর তানিম মজুমদারকে পুলিশ আটকের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের উল্লাপাড়া মজুমদার বাড়ি ও পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামে ভাড়া বাসায় ধর্ষণের পৃথক ঘটনা ঘটে। তানিম উল্লাপাড়ার মৃত ফজলুল করিম মজুমদারের ছেলে। রোববার  (১৭ মে) দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার উপ-পরিদর্শক নুর নবী। থানায় দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়, উল্লাপাড়া গ্রামের তুহিন মজুমদারের সাথে ৫-৬ বছর পূর্বে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয় জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের কেছকিমুড়া গ্রামের শান্তা আক্তারের(ছদ্মনাম)। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে শান্তার স্বামী তুহিন মজুমদার প্রবাসে চলে যায়। স্বামী প্রবাসে থাকায় সংসারের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস দেবর তানিম মজুমদারকে দিয়ে ক্রয় করাতো শান্তা আক্তার।

এ সুযোগে তানিম মজুমদার ভাবি শান্তা আক্তারকে বিভিন্ন সময়ে মোহনীয় কথা বলে বিয়ের প্রলোভন দেখায়। এরই মধ্যে গত বছরের ১০ অক্টোবর রাতে উল্লাপাড়ায় স্বামীর বসতঘরে বিয়ের প্রলোভনে শান্তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক(ধর্ষন) করে তানিম মজুমদার। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে রাতে শান্তা আক্তারকে ধর্ষন করে দেবর তানিম। কিছুদিন পর তানিম মজুমদার প্রবাসে চলে যায়। ঘটনার চার মাস পরে শান্তা আক্তারের শরীর খারাপ হলে চৌদ্দগ্রামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে পরীক্ষা করে জানা যায় সে অন্তঃসত্তা। বিষয়টি মোবাইলে দেবরকে তানিমকে জানালে সে দেশে এসে বিয়ে করবে এবং গর্ভজাত সন্তানের দায়িত্ব নিবে বলে শান্তা আক্তারকে আশ্বস্ত করে। স্বামী প্রবাসে থাকা অবস্থায় শান্তা আক্তার অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ায় লোকলজ্জার ভয়ে দেবর তানিম মজুমদারের কথামতো পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকে। দেবরের বিয়ের প্রলোভনে পড়ে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বৈধ স্বামী তুহিন মজুমদারকে তালাক দেয় শান্তা আক্তার। ৯ মে দেবর তানিম মজুমদার ছুটিতে দেশে আসে এবং আবারও শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন শেষে ভাড়া বাসা থেকে চলে যায়। তানিমকে বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে সে কালক্ষেপন করতে থাকে। পরবর্তীতে আবারো ক্লিনিকে পরীক্ষা করালে জানতে পারে, শান্তা ৭ মাসের অন্তঃসত্তা। পরে বাধ্য হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তানিম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করে শান্তা আক্তার।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নুর নবী রোববার বিকেলে বলেন, ভুক্তভোগী নারী বাদি হয়ে দেবর তানিম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ টেষ্ট রিপোর্ট পেলে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে